দুই দেবীর কাছে মানত করেই এসেছিল বংশধর, মাথাভাঙার বর্মণ পরিবারের পুজোয় শতবর্ষের অদ্ভুত রীতি

সাধারণত দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দশভুজার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ পূজিত হন। কিন্তু কোচবিহারের মাথাভাঙার বর্মণ পরিবারের পুজো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এই বনেদি পরিবারের পুজোয় দেবী দুর্গার সঙ্গেই একই বেদিতে সাড়ম্বরে আরাধনা করা হয় মা চণ্ডী ও মা মনসার। শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও এই অদ্ভুত ও অনন্য রীতি আজও সমান নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।
কীভাবে শুরু এই রীতির?
পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, এই রীতির নেপথ্যে রয়েছে এক অলৌকিক বিশ্বাস ও মানতের কাহিনি। অতীতে বর্মণ পরিবারে পরপর আটটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বংশরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যরা একটি পুত্রসন্তানের আশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। সেই সময় তাঁরা মা চণ্ডী এবং দেবী মনসার কাছে গভীর ভক্তিভরে মানত করেন।
বিশ্বাস, দুই দেবীর আশীর্বাদেই অবশেষে বর্মণ পরিবারে জন্ম নেয় বহুপ্রতিক্ষিত সেই পুত্রসন্তান। এরপর থেকেই পরিবারে দুর্গাপুজোর সঙ্গে মা মনসা ও মা চণ্ডীর যুগ্ম আরাধনা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে।
মারায় চণ্ডীর পুজোতেই দশভুজা বন্দনা
মাথাভাঙার বর্মণ পরিবারের এই পুজোয় মারায় চণ্ডীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, দুই দেবীর কৃপাতেই তাঁদের বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা পেয়েছিল। তাই শারদোৎসবে দশভুজা দুর্গার পাশাপাশি মনসা ও চণ্ডীর বিশেষ পুজো না করলে এই পরিবারের উৎসব সম্পূর্ণ হয় না।
আজও বংশপরম্পরায় সেই প্রাচীন প্রথা, আচার এবং বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা। পুজোকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন তো বটেই, এমনকি এই অনন্য রীতি চাক্ষুষ করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় জমান বর্মণ বাড়িতে।