বিমান থেকে সোজা প্রিজন ভ্যান! আন্দোলন থামাতে পুলিশ যা করল, দিল্লির এই ছবি দেখলে চোখ কপালে উঠবে

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন এবং তার জেরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন যেমন তীব্র আকার ধারণ করে, তেমনই তা দমনে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। যন্তর-মন্তরের দিকে আন্দোলনকারীদের এগোতে না দিয়ে চালানো হয় ব্যাপক ধরপাকড়। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবারে এই সংঘাতে প্রায় ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু এত মানুষ আটকের পর বর্তমানে কোথায় আছেন?

কেন এই তুমুল বিক্ষোভ?
একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গরমিল হয়েছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুলে এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে জোরালো আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। এই বিক্ষোভে সামিল হতে গিয়ে শনিবারই পুলিশের হাতে আটক হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এমনকি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়। এছাড়াও চার রাজ্যের একাধিক বিরোধী নেতা, সাংসদ-বিধায়ক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই ধরপাকড়ের কবলে পড়তে হয়।

আটক ৩ হাজার আন্দোলনকারী এখন কোথায়?
দিল্লি পুলিশের তরফে প্রাথমিক জানানো হয়েছিল যে, শনিবারের বিক্ষোভে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশকেই পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে মহিলা ও প্রবীণ নাগরিকদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং ধাপে ধাপে অন্যদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শীর্ষ নেতাদের অবস্থান ও মুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ সময় বেশ ধোঁয়াশা বজায় ছিল।

রবিবার ফের বড় আন্দোলনের ডাক
ব্যাপক ধরপাকড় ও পুলিশি কড়াকড়ির পরেও দমে যায়নি সিজেপি। উল্টে আরও জোরালো প্রতিবাদের বার্তা দিয়ে রবিবার ফের ‘যন্তর-মন্তর চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আজকের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দিল্লি জুড়েই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং এই প্রতিবাদের রেশ বজায় রাখতে সোমবার ‘ইন্ডি’ জোটের তরফেও আলাদাভাবে বড় বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে রবি ও সোমবার—ছুটির আমেজেও রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ যে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *