ভোট চুরির অভিযোগে তোলপাড়ের মাঝেই বড় মোড়! নির্বাচন কমিশনের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন দেশের ১২৪ শীর্ষ প্রাক্তন আমলা

নির্বাচন কমিশনের (EC) নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলা তীব্র বিতর্ক ও টানাপোড়েনের মাঝে কমিশনের পাশে এসে দাঁড়ালেন দেশের ১২৪ জন বিশিষ্ট প্রাক্তন আমলা। প্রাক্তন আইএএস (IAS), আইএফএস (IFS) ও অন্যান্য সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিসের কর্তারা নাগরিকদের উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অহেতুক নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর আগে অভিযোগকারীদের অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ পেশ করা উচিত। তথাকথিত ‘ভোট চুরি’ বা কারচুপির দাবির পেছনে কোনো ভিত্তি নেই মন্তব্য করে তাঁরা দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
প্রাক্তন বিদেশ সচিব কানওয়াল সিব্বল, আরডি কাপুর, সমীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট আমলাদের স্বাক্ষর সংবলিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা এখন ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা বুথ দখলের যুগের অন্ধকার দিন পেরিয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও সুসংহত হয়েছে। বর্তমানে ইভিএম (EVM) সিলিং, স্ট্রং রুমের অভেদ্য নিরাপত্তা, পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT)-এর মতো কঠোর আইনি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা বলয় রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁরা জানান, কোনো পুনর্নির্বাচন ছাড়াই সেখানে ইতিহাস গড়ে রেকর্ড ভোটদান হয়েছিল। চিঠিটিতে কড়া ভাষায় বলা হয়, “কোনো নির্বাচনী ব্যবস্থা জিতলে স্বচ্ছ এবং হারলেই কারচুপিতে ভরা—এমন দ্বিমুখী যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না।”
এছাড়া ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমলারা জানান, নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও নির্বাচন কমিশনের এই একচ্ছত্র অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোকে নিশানা করে আমলাদের তোপ, গণতান্ত্রিক দেশে যে কারও প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে, তবে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণ করার নৈতিক দায়িত্বও অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায়। দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে প্রাক্তন আমলাদের এই যৌথ পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে।