হানি-ট্র্যাপ আর কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা! পাকিস্তানের অবৈধ কল সেন্টারে মেগা রেইডে আটক ৩২০

অনলাইন প্রতারণা এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল পাকিস্তান। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NCCIA) লাহোরে একযোগে আটটি অবৈধ কল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মোট ৩২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযানে ধৃতদের মধ্যে ২১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ২০ জন তরুণীও রয়েছেন। মূলত আর্থিক জালিয়াতি, অনলাইন হয়রানি এবং হানি-ট্র্যাপিংয়ের মতো সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের সন্ধান পেতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানাল প্রশাসন।

শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিসিআইএ-র অতিরিক্ত পরিচালক আতিফ আমির এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ১২ জন চীনের, ৫ জন ফিলিপাইনের, ২ জন ভিয়েতনামের, ১ জন মালয়েশিয়ার এবং ১ জন নেপালের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতারা মূলত ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মতো উন্নত দেশের নাগরিকদের নিশানা করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা চালাত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই সাইবার জালিয়াতি চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হানি-ট্র্যাপ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার জন্য ২০ জন তরুণীকে কাজে লাগিয়েছিল। ফাঁদে ফেলার পর ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও আপত্তিকর মুহূর্তকে পুঁজি করে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ আদায় করাই ছিল এই গ্যাংয়ের মূল উদ্দেশ্য। অপরাধ দমনে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার কথা জানিয়েছে সাইবার ক্রাইম এজেন্সি। অভিযันস্থল থেকে বাজেট হওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন, ২০১৬ (PECA)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার গভীরে তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *