‘বাংলাকে গুজরাত বানাবো!’-বাংলার জন্য ৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিগত পাঁচ দশকের বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ একটি ‘নির্ভরশীল রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজ্যের এই স্থবিরতা কাটাতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথেই বাংলাকে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত রাজ্যে রূপান্তর করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিলেন তিনি। ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

গুজরাত মডেলের অনুকরণ ও তীব্র কটাক্ষ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুজরাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাতের উন্নয়নের স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করা হবে। সম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা হয়তো একদিনে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে অন্তত ৫০ শতাংশ টার্গেট অর্জন করতে পারলেও বাংলার অর্থনৈতিক চিত্রে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর। বাম ও তৃণমূল আমলের দীর্ঘ মেয়াদকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, এই দুই রাজনৈতিক দলের নীতি বাংলাকে পরনির্ভরশীল করে তুলেছে।

উপনির্বাচনের জয় ও জাতীয়তাবাদের জয়গান

সম্প্রতি রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) অভাবনীয় সাফল্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই দুই কেন্দ্রের মানুষ সমস্ত সাম্প্রদায়িকতার দেওয়াল ভেঙে ফেলেছেন। বিরোধী দলগুলি এতদিন ভাষা ও আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি করেছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বাংলার সাধারণ মানুষ বিজেপির জাতীয়তাবাদী উন্নয়নের পক্ষেই রায় দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নীতির ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।

এদিন নিজের বক্তব্যে গুজরাতের মেহসানা জেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মস্থান ভদনগরে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মূল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী ও দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের ফলেই ভারত আজ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দেশটি বিশ্ব তালিকার তৃতীয় স্থানে পৌঁছবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *