“মাইক টাইসনের সামনে পড়লেই কেলো!” রিংয়ের সেই ত্রাসকে নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বক্সিং রিংয়ের ভেতরে কিংবদন্তি মাইক টাইসনের নাম শুনলেই বিপক্ষের বুক কেঁপে উঠত—একসময়ের সেই ত্রাস ও ভয়ংকর ইমেজকে স্মরণ করে নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসে এক প্রচারমঞ্চে রীতিমতো রসিকতা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাক্তন এই হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের পুরনো দিনের লড়াইয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনোদিনই টাইসনের মুখোমুখি লড়তে চাইবেন না।

টাইসনকে নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প?
রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদপ্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিতে সিরাকিউসে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই তিনি মঞ্চে ডেকে নেন বক্সিং লিজেন্ড মাইক টাইসনকে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দর্শকদের মধ্যে আমি এমন একজনকে দেখতে পাচ্ছি, কথা দিচ্ছি যার সঙ্গে আমি কোনোদিন লড়তে যাব না। তবে মাইক যখন নিজের সেরা ফর্মে ছিল, যখন ও বিশ্বের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ছিল, সেই সময়ের কথা আমার বেশ মনে আছে। ও রিংয়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকত আর ওর লোকজন ওকে আটকে রাখত। সামনে যে-ই থাকুক না কেন, তাকে ও মেরেই ফেলতে চাইত।” ট্রাম্পের মতে, টাইসন অতীতে যেমন ভয়ঙ্কর ছিলেন, তেমনই ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইটার।

গভর্নর প্রচারে টাইসনের উপস্থিতি:
নিউ ইয়র্কের বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান। ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, ব্রুসের পাশে টাইসন দাঁড়িয়ে থাকায় তিনি বেশ ভালোই নিরাপত্তা পাবেন। ট্রাম্পের কথায়, “আমি দেখছি ও ঠিক ব্রুস ব্লেকম্যানের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। ব্রুসের একটু নিরাপত্তা দরকার, আর ও একদম সঠিক লোকটাকেই পেয়েছে। ব্রুস ভালো করেই জানে কার পাশে দাঁড়াতে হয়।”

টাইসনের প্রতিক্রিয়া ও শারীরিক রূপান্তর:
এর আগে ওই দিন সকালেই হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন ষাট বছর বয়সি টাইসন। সেখান থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে সিরাকিউসে আসেন তিনি। মঞ্চে উঠে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে টাইসন বলেন, “আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমার প্রেসিডেন্ট, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এখানে থাকতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন প্রেসিডেন্ট না থাকলে আমি কোনোভাবেই আজ এখানে আসতাম না।”

টাইসন মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার সময় তাঁর শারীরিক ফিটনেস নিয়ে রসিকতা করে ট্রাম্প বলেন, “আমি ওকে অনেকবার রিংয়ে নামতে দেখেছি। ও সত্যিই খুব ভয়ংকর ছিল। তবে আমার মনে হয়, ৩০ বছর আগে ওকে যেমন দেখতে ছিল, তার চেয়ে এখন ওকে বেশি ভালো দেখতে লাগে।”

উল্লেখ্য, মাত্র ২০ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ বক্সার হিসেবে বিশ্ব হেভিওয়েট খেতাব জয় এবং পেশাদার বক্সিংয়ে ৫০টি জয়ের (যার মধ্যে ৪৪টিই নকআউট) মালিক মাইক টাইসন আজও ক্রীড়াজগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *