কমোডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন ঘাঁটা বা পেটের অজুহাত! ধ্বংসের মুখে কি আপনার সংসারও?

বাথরুমে একটু বেশি সময় কাটানো কিংবা ফোন হাতে কমোডে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রল করা অনেকেরই রোজকার অভ্যাস। তবে আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হওয়া এই অভ্যাসই যদি দাম্পত্য জীবনে অশান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক চর্চায় উঠে এসেছে এমনই এক অদ্ভুত অথচ বাস্তব সমস্যা, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েপনাইজড পুপিং’। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ঘরের দায়িত্ব এড়ানো এবং দীর্ঘ সময় শৌচালয়ে কাটানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দায়িত্ব এড়ানোর নিখুঁত অস্ত্র?
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ মূলত এমন একটি প্রবণতাকে বলা হচ্ছে, যেখানে শৌচালয়ে যাওয়ার ছুতোয় ঘরের নিত্যদিনের কাজ, রান্নাবান্না কিংবা বাচ্চাদের সামলানোর মতো গুরুদায়িত্ব থেকে সুকৌশলে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া হয়। সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ অভিযোগ তুলেছেন যে, যখনই ঘর পরিষ্কার বা কোনও জরুরি গৃহস্থালির কাজের সময় আসে, তখনই তাঁদের সঙ্গীরা পেটের সমস্যার অজুহাত দিয়ে আধ ঘণ্টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা বাথরুমে লুকিয়ে থাকেন।
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে শারীরিক প্রয়োজন বলে মনে হলেও, অপর সঙ্গীর কাছে এটি দায়িত্ব এড়ানোর একটি কায়দা হিসেবে কাজ করে। এর ফলে অন্য জনের ওপর একতরফা কাজের চাপ ও মানসিক ক্ষোভ জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে সম্পর্কের স্বাভাবিক বোঝাপড়াকে নষ্ট করে দেয়।
শুধু দাম্পত্য কলহ নয়, লুকিয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিও
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে শুধু অলসতা নয়, বরং রয়েছে মানসিক চাপ এবং সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতির অভাব। কাজের ঝামেলা বা দাম্পত্যের কথা কাটাকাটি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে বাথরুমকে অনেকেই নিজের নিরাপদ আশ্রয় বানিয়ে ফেলেন।
তবে চিকিৎসকরা এই বিষয়ে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। কমোডে বসে মোবাইল ঘাঁটাঘাফি করে দীর্ঘক্ষণ অকারণে বসে থাকার অভ্যাস পাইলস বা অর্শরোগের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যক্তিগত একাকী সময় বা বিশ্রামের প্রয়োজন হলে বাথরুমকে অজুহাত না বানিয়ে সরাসরি সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।