মাঝ আকাশে চলন্ত বিমানে বজ্রপাতের ভয়ঙ্কর ধাক্কা! ১০০ কোটি ভোল্টের পরেও কীভাবে বেঁচে যান যাত্রীরা?

মাঝ আকাশে ওড়ার সময় হঠাৎ যদি কোনো বিমানে বিশাল বজ্রপাত বা বিদ্যুতের ধাক্কা লাগে, তবে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে? শুনতে ভয়ংকর মনে হলেও, আধুনিক বিমানগুলো এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। ১০০ কোটি ভোল্টের শক্তিশালী বিদ্যুৎ বা বজ্রপাতের মুখোমুখি হওয়ার পরও কীভাবে যাত্রীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে থাকেন, তা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে রয়েছে এক চমৎকার ও কৌতূহলে ভরা ব্যাখ্যা।
যেভাবে কাজ করে বিমানের সুরক্ষা কবচ
বিজ্ঞানীদের মতে, বিমান যখন আকাশে ওড়ে, তখন প্রায়শই তাতে বজ্রপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু বিমানগুলোর বাইরের কাঠামো এমন এক বিশেষ ধাতু দিয়ে তৈরি যা বিদ্যুৎকে খুব সহজেই চারপাশ দিয়ে পরিবাহী করে ছড়িয়ে দেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফ্যারাডে কেজ’ (Faraday Cage) বলা হয়। অর্থাৎ, বজ্রপাতের চরম শক্তিশালী ভোল্টেজ বিমানের বাইরের বডি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাটি বা বাতাসের দিকে চলে যায়, কিন্তু তার বিন্দুমাত্র প্রভাবও বিমানের ভেতর থাকা যাত্রী বা কেবিনের ওপর পড়তে দেয় না।
যাত্রীদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসাধারণ প্রযুক্তির কারণেই আকাশে বজ্রপাতের মুখোমুখি হওয়ার পরও যাত্রীরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকেন। বিমানের ভেতরে থাকা হাজার হাজার ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং যাত্রীরা বাইরের এই ভয়ংকর পরিবেশ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে যান। প্রকৃতির সবচেয়ে ভয়ংকর রূপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মুন্সিয়ানা সত্যিই অবাক করার মতো।