নির্বাচন কমিশনের ওপর লাগাতার আক্রমণ কেন? জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রবীণ বিচারকদের ঐতিহাসিক খোলা চিঠি!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যেই এবার কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে এককাট্টা হলেন দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি। এক যৌথ খোলা চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়াই লাগাতার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘বিশেষ তীব্র সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR)-এর মতো আইনি প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাঠগড়ায় তোলার তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

নীরব থাকা আর নিরপেক্ষতার লক্ষণ নয়

চিঠিতে সই করা প্রবীণ ও প্রাক্তন বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে চুপ করে থাকা আর নিরপেক্ষ থাকার পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁদের জোরালো বার্তা—”গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করার অধিকার সবারই রয়েছে, কিন্তু অন্ধভাবে প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা ‘চোর’ ও ‘পুতুল’ বলে আক্রমণ করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে যারা প্রমাণ ছাড়া লাগাতার ভোট চুরির অভিযোগ তুলে চলেছেন, তাঁদের তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতিরা বলেছেন যে, আদালতের মঞ্চ বা প্রেস কনফারেন্সে মনগড়া অভিযোগ না তুলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি পথে লড়াই করা উচিত।

এসআইআর (SIR) বিতর্ক ও বিরোধীদের বিক্ষোভ

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহল চরম উত্তপ্ত। বিরোধীদের একাংশ এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন শাসকদলের সুবিধার্থে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার এই আইনটি আজকের নয়, বরং ১৯০৫ সালের সংবিধানের নিয়ম মেনেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে গেলে ইভিএম সঠিক, আর হারলেই সিস্টেমকে কাঠগড়ায় তোলা—রাজনীতির এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকে গুজবে কান না দিয়ে সত্যিটা যাচাই করার আর্জি জানিয়েছেন দেশের এই বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *