সমবায় ব্যাঙ্কে অঘটন! ৯৬ লাখের ঋণে বেআইনি ছাড়পত্রের অভিযোগ, প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীকে সমন পাঠাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন?

হুগলির শ্রীরামপুর ও জাঙ্গিপাড়া এলাকার কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কে প্রায় ৩ কোটি টাকা তছরুপ ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর এই আর্থিক অনিয়মের জল গড়াল রাজ্য রাজনীতির একেবারে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৯৬ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার তদন্তকারীদের আতশিকাঁচের তলায় উঠে এসেছে প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নাম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ দল যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে বলে সূত্রের খবর।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কড়া তদন্ত

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের এক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জাঙ্গিপাড়ার সংশ্লিষ্ট কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কে পৌঁছায়। তদন্তকারীরা ব্যাঙ্কের রেজিস্টার, ঋণ মঞ্জুরের ফাইল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনা করার পরই তদন্তকারীদের দাবি, সমবায়ের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন ও ব্যাংকিং নীতি একপাশে সরিয়ে রেখে এক প্রভাবশালী নেতার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর?

কমিশনের তদন্তকারী ইন্সপেক্টর সুজয় মণ্ডল জানান, সাধারণ কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ঋণের একটি বড় অংশ নিয়ম ভেঙে অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পেছনে প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব বা সুপারিশ ছিল কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সমবায়ের তৎকালীন ম্যানেজার তথা তৃণমূলের পঞ্চায়েত নেতা স্বপন পাত্রের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই বোর্ড বৈঠকের কোনো বিশেষ অনুমোদন ছাড়াই বা নিজস্ব ক্ষমতাবলে কোটি টাকার কাছাকাছি ঋণ পাস করানো হয়।

অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত রাজনৈতিক চাপিয়ে দেওয়া মিথ্যা অভিযোগ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। নিয়ম মেনেই নিজের জমি বন্ধক রেখে মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদে-আসলে সেই টাকা পরিশোধও করে দিয়েছি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। কমিশন ডাকলে আমি সবরকম সহযোগিতা করব।”

তদন্তের আওতায় ব্যাঙ্কের বিশাল গরমিল

বর্তমানে সমবায় ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার স্বপন পাত্র ও অ্যাকাউন্ট্যান্ট পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ব্যাঙ্কের বর্তমান অস্থায়ী ম্যানেজমেন্টের দাবি, পুরোনো খাতাগুলোতে প্রায় ৩ কোটি টাকার বিশাল হিসাবের গরমিল দেখা যাচ্ছে। বহু আমানতকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নামে না নিয়েই বিপুল টাকার ঋণ পাওনা দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এই কেলেঙ্কারির শিকড় ঠিক কতটা গভীরে ছড়িয়েছে, তা বের করতে তদন্তের পরিধি দিন দিন আরও বাড়িয়ে চলেছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *