৪৩২ বছরের প্রাচীন পুজো! জমিদারের হারানো স্বর্ণমুদ্রা উদ্ধার আর তান্ত্রিক সাধনার রহস্যময় ইতিহাস

শরতের আকাশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। চারদিকে ঢাকে কাঠি পড়ার শব্দে মুখরিত চারপাশ। এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণ বারাসতের ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রী বাড়ির দুর্গাপুজো নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। দীর্ঘ ৪৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বনেদি বাড়ির পুজো নিছক কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক সুপ্রাচীন ইতিহাস ও রোমাঞ্চকর লোককথা।
লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদি গঙ্গার তীরবর্তী ঘন জঙ্গলঘেরা এই অঞ্চলে তন্ত্রসাধনা শুরু করেছিলেন রামচরণ ভট্টাচার্য। তৎকালীন সময়ে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা এবং তন্ত্রসাধনাকে কেন্দ্র করে বহু কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা শোনা যায়, যার মধ্যে জমিদারের হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণমুদ্রা উদ্ধার ও তাঁর নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আদি গঙ্গার সেই ধারা ও জঙ্গল হারিয়ে গেলেও ম্রিয়মান হয়নি শাস্ত্রীদের ঐতিহ্য।
আজও দক্ষিণ বারাসতের এই প্রাচীন শাস্ত্রী বাড়ির অন্দরমহলে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কান পাতলে শোনা যায় সেই পুরনো আমলের মন্ত্রোচ্চারণ আর প্রাচীন রীতিনীতির ছোঁয়া। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পূর্বপুরুষদের সেই ধারা ও ভক্তিমার্গের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন বর্তমান বংশধরেরা। শত পরিবর্তনের পরেও ৪৩২ বছরের এই বনেদি পুজো আজও বাংলার প্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অনন্য জীবন্ত দলিল হয়ে বেঁচে রয়েছে।