“১৭ বার অবসর নিয়েছে, ওর কথার কোনো দাম নেই!” হুমায়ুনের কান্নাকে ‘কুমীরের কান্না’ বলে কটাক্ষ সজলের

উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের চরম উত্তাপ। ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রতিষ্ঠাতা তথা রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়া এবং কান্নার প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। শুধু তাই নয়, হুমায়ুন বিধানসভায় পা রাখলে অন্য বিধায়করা তাঁকে উপযুক্ত “বোঝা বুঝিয়ে দেবেন” বলেও প্রকাশ্যেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সজল।
নির্বাচনের দিন থেকেই নানা মন্তব্য ও মেজাজ নিয়ে চর্চায় ছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে বেলা গড়ালে তাঁর ছেলের হার একপ্রকার নিশ্চিত বুঝে তাঁর চোখে জল এবং রাজনীতি ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। হুমায়ুনের এই আক্ষেপ ও কান্নার ঘটনাকে সরাসরি ‘কুমীরের কান্না’ বলে উড়িয়ে দিয়ে সজল ঘোষ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ হুমায়ুন কবীরের মিথ্যাচার। বাংলার মানুষ তাঁর আসল চরিত্র চিনে গেছে। ও ভেবেছিল নিজে এবং ওর ছেলেও বিধানসভায় যাবে। কিন্তু মানুষ তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।”
হুমায়ুনের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে সজল আরও কটাক্ষ করে বলেন, “এর আগেও উনি ১৭ বার রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন এবং ১৭ বারই ফিরে এসেছেন। ওঁর কথার আর কোনো মূল্য নেই।” একইসঙ্গে হুমায়ুনের অতীতে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সজল ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ওঁর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রদায়িক বিভেদের রাজনীতি বন্ধ করার হুংকার দিয়ে বিজেপি বিধায়ক সাফ জানান, বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলেমিশে থাকে, তাই বিভেদের রাজনীতি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। শুক্রবার রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগে দুই নেতার এই রাজনৈতিক বাদানুবাদ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।