প্রতিদিন ঠিক কটা করে আমন্ড খাওয়া উচিত? না জানলে বড় ভুল করছেন!

প্রতিদিন কতগুলি আমন্ড খাওয়া স্বাস্থ্যকর? কীভাবে খাবেন?

শীতকাল মানেই ডায়েটে নানা ধরনের বাদাম রাখার উপযুক্ত সময়। কাজু আর আখরোটের পাশাপাশি আমন্ড বা কাঠবাদামও অনেকের প্রতিদিনের খাবারের তালিকার শীর্ষে থাকে। ছোট্ট এই বাদামে ভরপুর মাত্রায় রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ফলে পরিমিত পরিমাণে আমন্ড খাওয়া যে কোনও সুষম ডায়েটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

প্রতিদিন ঠিক কতগুলি আমন্ড খাবেন?

সাধারণত চিকিৎসকরা দিনে এক মুঠো অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০টি আমন্ড খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখা দরকার যে প্রত্যেকের শরীরের পুষ্টির প্রয়োজন, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা এক রকম নয়। তাই প্রতিদিন ২০ থেকে ২৩টি আমন্ড খেতেই হবে এমন কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কম পরিমাণেও নিয়মিত আমন্ড খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট, তাদের ক্ষেত্রে বাদামের পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কারণ আমন্ডের ফ্যাট মূলত স্বাস্থ্যকর হলেও এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশ অনেকটাই বেশি থাকে।

আমন্ড কেন শরীরের জন্য উপকারী?

আমন্ডে থাকা ভিটামিন ই শরীরে অত্যন্ত কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এর মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার ও খনিজ উপাদান সামগ্রিক শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বাদাম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসের গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

এছাড়া আমন্ডে ফ্যাট, প্রোটিন এবং ফাইবার একসঙ্গে থাকায় সামান্য পরিমাণ খেলেই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি হয়। এই কারণে অস্বাস্থ্যকর বিস্কুট, চিপস বা অতিরিক্ত মিষ্টির মতো স্ন্যাকসের বদলে এক মুঠো কাঠবাদাম বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে বাদামের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস রাখলে হৃদ্‌যন্ত্র অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে। তবে আমন্ড কোনও জাদুকরী ওষুধ নয় এবং শুধুমাত্র বাদাম খেলেই সমস্ত রোগ নিরাময় হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা ভুল। নিয়মিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবেই একে রাখা উচিত।

কাঁচা, ভেজানো না কি রোস্টেড আমন্ড খাবেন?

অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে সকালে ঘুম থেকে উঠে ভেজানো আমন্ড খাওয়ার। আবার অনেকেই কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড আমন্ড খেতে পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন্ড ভিজিয়ে খেতেই হবে এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। কাঁচা কিংবা ড্রাই-রোস্টেড, বিশেষ করে অতিরিক্ত নুন বা তেল-মশলা ছাড়া আমন্ড খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

কাদের একটু সাবধানে থাকা দরকার?

যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের যেকোনো প্রকার আমন্ড খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। এছাড়া যারা কঠোর ক্যালোরি চার্ট মেনে চলছেন, তাদেরও মেপে খাওয়া দরকার। কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় আমন্ড খেলে উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে পরিমিত আমন্ড খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং হালকা শরীরচর্চাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *