মোদীর মধ্যে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর রূপ দেখেছেন! ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে শোরগোল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। শুধু প্রশংসাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ভগবান বিষ্ণুর ‘কল্কি’ অবতার বলে উল্লেখ করে রাজনৈতিক মহলে চরম চর্চার সৃষ্টি করেছেন তিনি। ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন এবং ‘B4B’ নীতির মাধ্যমে ভুটানের সার্বিক উন্নয়নে মোদীর বিশাল অবদানের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেছেন টোবগে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, প্রায় দশ মাস আগে যখন তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যায় এবং সংসদে তাঁদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না, সেই সাধারণ নাগরিকের সময়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন জুগিয়েছিলেন। টোবগের মতে, মোদী সবসময় তাঁর কাছে একজন ‘বড় দাদার মতো’। তখনই তাঁর মনে হয়েছিল, এই অঞ্চলের দূরদর্শী ও জ্ঞানী শাসকদের মধ্যে তিনি যেন ঈশ্বরের এক বিশেষ রূপ দেখতে পান। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, মোদীকে বিষ্ণুর অবতার বলাটা সম্পূর্ণ সঠিক, কারণ তিনি হলেন সেই জনসেবক যিনি বিশৃঙ্খলা দূর করে সমাজে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেন।
‘বিকশিত ভারত’ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি প্রসঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জানান, নিঃস্বার্থ সেবা, প্রজ্ঞা, সহানুভূতি ও সাহসের মূর্ত প্রতীক হলেন মোদী। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য তিনি নিয়েছেন, তা আজ ১৪০ কোটি ভারতীয়র যৌথ স্বপ্ন। পাশাপাশি, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থ রক্ষা এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০ গোষ্ঠীর স্থায়ী সদস্য করার ক্ষেত্রেও তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন টোবগে।
বিশেষ করে ভুটানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অবদানকে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গভীর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই প্রথম বিদেশ সফরে ভুটানকে বেছে নেওয়া এবং ‘B4B’ (ভারতের জন্য ভুটান; ভুটানের জন্য ভারত) নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মোদী। এমনকি ভুটানের ত্রয়োদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য দ্বিগুণ করা থেকে শুরু করে গলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রজেক্টে ভারতের নিরলস সহযোগিতা—সবমিলিয়েই মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শেরিং টোবগে।