পাওয়ার টিলার থেকে ড্রোন—কিনে ভাড়া খাটান, ৪০% অনুদান দেবে সরকার, স্কিমটি বুঝুন

আধুনিক প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাচ্ছে কৃষিকাজের চেনা ছবি। জমি তৈরি থেকে শুরু করে ফসল কাটা—সবক্ষেত্রেই এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকদের সময় এবং কায়িক পরিশ্রম দুটোই বহুলাংশে কমিয়ে দিচ্ছে। তবে বহু কৃষক ও সাধারণ ব্যবসায়ীর পক্ষে ট্রাক্টর, কম্বাইন হার্ভেস্টার বা পাওয়ার টিলারের মতো বহুমূল্যের সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং গ্রামবাংলায় স্বনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে চালু হচ্ছে ‘কাস্টম হায়ারিং সেন্টার’ (Custom Hiring Centre)। এর মাধ্যমে কৃষকরা যেমন প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্প খরচে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়া নিতে পারবেন, তেমনই পুঁজি থাকা উদ্যোক্তারা কাস্টম হায়ারিং সেন্টার খুলে যন্ত্র ভাড়া দিয়ে লাভজনক ব্যবসাও করতে পারবেন।

কী কী সরঞ্জাম কিনতে হবে?

প্রকল্পের সুবিধা পেতে এবং কাস্টম হায়ারিং সেন্টার গড়ে তুলতে হলে কোনও একটি নির্দিষ্ট যন্ত্র (যেমন শুধু একটি ট্রাক্টর) কিনলে হবে না। সরকারি নির্দিষ্ট তালিকা থেকে কমপক্ষে ৪টি ভিন্ন ধরনের কৃষি সরঞ্জাম কেনা বাধ্যতামূলক।

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য যন্ত্রপাতি:

  • কম্বাইন হার্ভেস্টার ও ট্রাক্টর (ট্রাক্টর কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য)

  • কৃষি কাজের জন্য বিশেষ ড্রোন

  • মাল্টি-ক্রপ থ্রেশার ও পাওয়ার টিলার

  • পাওয়ার উইডার ও সোলার পাম্প সেট

  • মিনি রাইস মিল, ডাল মিল, তেল মিল এবং মিলেট মিল

বিনিয়োগ ও সরকারি অনুদানের সমীকরণ

এই প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং ভর্তুকির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থিক নিয়মাবলী বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • ন্যূনতম প্রকল্প মূল্য: কাস্টম হায়ারিং সেন্টার তৈরির জন্য ন্যূনতম প্রকল্প খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা।

  • সরকারি ভর্তুকি: এই প্রকল্পের মোট খরচের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি অনুদান বা সাবসিডি মিলবে। অর্থাৎ, ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ থাকছে।

  • বিনিয়োগ ও ব্যাঙ্ক ঋণ: প্রকল্প খরচ ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে সরকারি ভর্তুকি বাদ দিয়ে বাকি অর্থ আবেদনকারীর নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাঙ্ক ঋণের (Bank Loan) সমন্বয়ে মেটাতে হবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

  • নথিভুক্ত কৃষক: ‘কৃষকবন্ধু (নতুন)’ অথবা ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত থাকা কৃষকরা সরাসরি আবেদন জানাতে পারবেন।

  • কৃষক গোষ্ঠী ও স্বনির্ভর দল: সরকার নিবন্ধিত কৃষক দল, কৃষি সমবায় সমিতি এবং নিবন্ধিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও শর্তসাপেক্ষে আবেদনের সুযোগ পাবে।

  • বয়স ও জমির যোগ্যতা: আবেদনকারী কৃষকের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। পাওয়ার টিলার বা সোলার পাম্প সেট সংক্রান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে নিজের নামে ন্যূনতম ০.৫ একর কৃষিজমির খতিয়ান (ROR) থাকা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *