চুলকানির সমস্যা কি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে? অবহেলা করলেই বিপদ, অবিলম্বে করান এই ৪টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা!

ত্বকে সামান্য চুলকানি বা অস্বস্তি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা বলে মনে করেন অনেকে। ঋতু পরিবর্তন, অ্যালার্জি কিংবা ধুলোবালির কারণে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই চুলকানির সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক (Chronic Itching) রূপ নেয়, তবে তা কোনো সাধারণ ত্বকের সমস্যা নাও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে বাসা বাঁধা বড় কোনো অভ্যন্তরীণ রোগ বা অঙ্গের গোলযোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে এই দীর্ঘমেয়াদী চুলকানি। আর তাই সমস্যা বেশি দিন স্থায়ী হলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু রক্ত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, দীর্ঘদিনের চুলকানির সমস্যায় চিকিৎসকরা সাধারণত কোন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

১. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC – Complete Blood Count):
শরীরে কোনো ধরনের ইনফেকশন, রক্তাল্পতা (Anemia) কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গোলযোগ রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য সিবিসি পরীক্ষাটি অত্যন্ত মৌলিক ও প্রথম ধাপ। রক্তে ইওসিনোফিল (Eosinophils) বা শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে ত্বকে মারাত্মক চুলকানি হতে পারে।

২. লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT – Liver Function Test):
যকৃৎ বা লিভারের কার্যকারিতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটলে রক্তে বিলিরুবিন বা পিত্তরসের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ত্বকের নিচে জমা হয়ে তীব্র চুলকানির সৃষ্টি করে। হেপাটাইটিস কিংবা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো এই চুলকানি। তাই লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না জানতে এলএফটি পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

৩. কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT / RFT – Kidney Function Test):
রক্তে ইউরিয়া এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে (রেনাল ফেইলিওর বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা) ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং সারা শরীরে অসহ্য চুলকানি শুরু হয়। কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে ফিল্টার করতে ব্যর্থ হলেই এই লক্ষণ দেখা দেয়।

৪. ফাস্টিং ব্লাড সুগার এবং এইচবিএওয়ানসি (Blood Sugar / HbA1c Test):
ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লেও ত্বকের স্নায়ুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘন ঘন চুলকানি অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই সুগার লেভেল ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সামান্য ক্রিম বা লোশন মেখে চুলকানি সাময়িকভাবে কমানো গেলেও মূল সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং এই রক্ত পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিশ্চিত হোন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *