উত্তর-পূর্ব থেকে পাহাড়—পরপর দুদিনে জোড়া ভূকম্পনে কাঁপল দেশ! কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজ্ঞানীরা?

উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশ—পরপর দুই দিনে দেশের দুই প্রান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে অনুভূত হলো ভূকম্পন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা খুব একটা বড় না হলেও, বারবার এই ধরনের কম্পন পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

অসমের নগাঁওয়ে ভোরে জোরালো কম্পন
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ভোর ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড নাগাদ ৪.৫ মাত্রার মাঝারি মানের ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে অসমের নগাঁও জেলা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে (অক্ষাংশ ২৬.৪২৮ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯৩.০৬০ ডিগ্রি পূর্ব)।

ভোরের দিকে হঠাৎ এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নগাঁওয়ে এই বড় কম্পনের পর কোনও আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন হয় কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

হিমাচল প্রদেশের উনায় মৃদু কম্পন
অসমের এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই, ৫ অক্টোবর রাতে কেঁপে ওঠে হিমাচল প্রদেশের মাটি। ওই দিন রাত ১১টা ৪৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড নাগাদ ২.৫ মাত্রার মৃদু কম্পন অনুভূত হয় উনা জেলায়।

এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটির অত্যন্ত কাছাকাছি, মাত্র ৯ কিলোমিটার গভীরে (অক্ষাংশ ৩১.৬১৮ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৭৬.৩০১ ডিগ্রি পূর্ব)। কম্পনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেখানেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সতর্কতা
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ভিন্ন দুই প্রান্তে পরপর ঘটে যাওয়া এই দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র না থাকলেও, ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। প্রতিটি ভূমিকম্পের উৎসস্থল, গভীরতা এবং টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়া সম্পূর্ণ আলাদা। তবে গত কয়েক মাস ধরেই হিমালয়ের কোলে বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার ছোট-বদল কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের ভূকম্পন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *