‘ভোট চোর জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে!’ হুংকার অভিষেকের, দিল্লি পুলিশকে ঘিরে চরম সংঘাত!

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে মঙ্গলবার উত্তাল হলো জাতীয় রাজধানী। এদিন সকালে সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি এই মিছিলে পা মেলান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সমস্ত বিরোধী দলীয় সাংসদরা ও শীর্ষ নেতারা।

অভিষেকের বিস্ফোরক হুংকার ও সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ
এদিনের মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কমিশনের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। আমরা ছ’মাস বা এক বছর আগে যা বলেছিলাম, আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সেই একই কথা বলছেন। কাল সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ফর্ম ৬ কোনও ভাবেই অ্যাপ্রুভ করেনি। আমাদের দাবি পুরোপুরি মান্যতা পেয়েছে।”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে অভিষেক আরও বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিজেপিকে সুযোগ করে দিয়ে মানুষের অধিকার খর্ব করেছেন। বাংলা, বিহার, মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম অমীমাংসিত তালিকায় ঝুলছে। ভোট চোর জ্ঞানেশ কুমারের শুধু পদত্যাগ নয়, ওঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” সাধারণ মানুষের অধিকার কাড়েই বিজেপি সরকার দেশ চালাচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেড ও উত্তেজনার পরিবেশ
অন্যদিকে, সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে এই মিছিল এগোতেই তা আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। কমিশন অফিস থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও শুরু হয় কড়া নজরদারি।

যদিও এই কর্মসূচিতে শুধুমাত্র সাংসদ ও গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের অনুমতি ছিল, তবুও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব তাঁর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসে পৌঁছন। মাইকিং করে বারবার ব্যারিকেড না টপকানোর অনুরোধ করা হলেও, পুলিশ ও বিরোধী সাংসদদের মধ্যে এক চরম সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়।

বিজেপির পালটা আক্রমণ
ইন্ডিয়া জোটের এই সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশন অভিযানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, “ইন্ডি জোট বলে কোনও জোটের অস্তিত্ব কোনও দিন ছিল না। আমাদের রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাহুল গান্ধীর অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মল্লিকার্জুন খাড়্গের নাম ঘোষণা করেছিলেন। এঁরা জীবনে কখনও একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকও করতে পারেননি। আর আজ যখন দেশের মানুষ তাদের পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন।” সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী জোটের এই রাজনৈতিক সংঘাতে দিল্লির পারদ চড়েছে চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *