পুজোর বাজারে চমক! কোনো প্রবীণ শিল্পী নন, মাত্র এক তরুণ ছাত্রের হাতের জাদুতে প্রাণ পেল মহামিষাসুরমর্দিনী!

শরতের আকাশ আর বাতাসে পুজোর গন্ধ মানেই চারদিকে সাজো সাজো রব। এই উৎসবের মরশুমে প্রবীণ ও পেশাদার শিল্পীদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা যখন সমাজের নজর কাড়ে, তখন তার আনন্দই আলাদা। আর তেমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নদীয়ার এক উদীয়মান কলেজ ছাত্র ত্রিশানু রায় (Trishanu Roy)। পেশাদার কোনো সাহায্য বা বড় কোনো কারখানার সাহায্য ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় একা হাতে ৩ ফুট লম্বা এক দুর্গা প্রতিমা বা মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি গড়ে তুলেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি গভীর টান এবং রূপটান ও প্রতিমা গড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল ত্রিশানুর। পড়াশোনার ফাঁকে নিজের মনের টানেই তিনি এই কঠিন কাজটি শুরু করেন। মাটি, খড়, কাঠ ও সুতোর নিখুঁত বুননে তিলে তিলে দেবী প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাঁর এই অসামান্য সৃষ্টি ইতিমধ্যেই স্থানীয় এলাকায় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে এবং সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে।
ত্রিশানু রায়ের এই প্রতিভার বিশেষ দিকগুলি:
-
সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রচেষ্টা: কোনো অভিজ্ঞ শিল্পীর সাহায্য বা গাইডেন্স ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের আগ্রহ ও ইউটিউব বা প্রবীণদের কাজ দেখে এই নিখুঁত তিন ফুটের মূর্তি তৈরি করেছেন তিনি।
-
কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য: পড়াশোনার চাপ সামলে প্রতিদিন নিয়ম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়ে তিলে তিলে এই প্রতিমাকে রূপ দিয়েছেন এই তরুণ ছাত্র।
-
তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা: আজকের দিনে যখন যুবসমাজ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিতে আসক্ত, তখন বাংলার সনাতন শিল্প সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ত্রিশানুর এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
সাধারণ ঘরের এক যুবকের এই অসাধারণ সাধনা ও শিল্পকলা প্রমাণ করে যে, মনের জোর এবং নিখাদ ভালোবাসা থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে অনন্য সৃষ্টি করা সম্ভব।