স্মিতকে ছুরি মারা কো-পাইলট কে? বিমান ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন কেন? জানুন বিস্তারিত

মাঝআকাশে এক রোমহর্ষক ও ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হলেন ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের যাত্রীরা। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ফ্লাইটে ক্যাপ্টেনের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালান খোদ কো-পাইলট। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ওই কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি, যিনি ওমানের নাগরিক। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।

সৌদি সম্প্রচারমাধ্যম আল আরাবিয়া এবং এবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে ওমান এয়ার এই পাইলটকে আগেই বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ বা সাসপেন্ড করেছিল। এমনকি তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত কো-পাইলট স্বীকার করেছেন যে, তিনি বিমানটিকে ইজরায়েলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন।

আইএস বা ইসলামিক চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েই এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ওই পাইলটের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কাজ করছিল। তবে তিনি কারও নির্দেশে এমনটা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

৩০ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073)-এ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে ওড়ার সময় হঠাৎই ককপিটের ভেতরে কো-পাইলট ধারালো অস্ত্র বা ছুরি নিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর চওড়াও হন। হামলার জেরে মারাত্মকভাবে আহত হন ক্যাপ্টেন।

রয়টার্সের ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, এই ধস্তাধস্তির মাঝেই বিমানটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটু বেশি সময়ে বিমানটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়, যা ককপিটে এক ভয়ঙ্কর জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে।

গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তিনি somehow ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী এবং বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের দুই অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করেন। যাত্রীরা মিলে ওই কো-পাইলটকে ধরে ফেলে কেবল তার দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখেন।

বিমানে থাকা এক চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে আহত ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর ওই দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সাহায্যেই বিমানটিকে নিরাপদেই সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। কীভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনী এড়িয়ে একজন বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ পাইলট তেল আভিভগামী বিমানের ককপিটে ঢোকার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রেজিস্টার্ড হওয়ায় সে দেশেই মূল তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ইজরায়েলও এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছাতে বৃহত্তর তদন্তে অংশ নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *