ইরান সীমান্তে নামছে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজ! বড় যুদ্ধের আগে চরম হুঙ্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ায় ফের ভয়াবহ যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনের পরেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানে নতুন করে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সৈন্য এবং তৃতীয় একটি শক্তিশালী বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় শুরু হতে চলা মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ তার বিশাল স্ট্রাইক গ্রুপসহ নির্ধারিত অঞ্চলে এসে পৌঁছাবে। বর্তমানে ওই জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ—‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে। নতুন এই সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌসেনা, মেরিন এবং যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি সাম্প্রতিক সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও তেহরান-যোগের ইঙ্গিত

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান বর্তমানে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে বলেই হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চাইছে।

এর পাশাপাশি, সম্প্রতি ফ্লাইদুবাই বিমানে সহকারী পাইলটের আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করার চেষ্টার নেপথ্যেও ইরানি যোগসূত্র রয়েছে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, হামলাকারী ব্যক্তি কি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-র সঙ্গে যুক্ত নাকি মৌলবাদে অনুপ্রাণিত? এর উত্তরে ট্রাম্প জানান যে তেমনটা হওয়াই অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এই ঘটনার পেছনে ইরান জড়িত থাকলে তাদের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানা হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় चेतावनी দিয়েছেন তিনি। যদিও এই হামলায় ইরানের প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো পোক্ত সরকারি তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *