সিগারেট ছাড়লেই কোষ্ঠকাঠিন্য কেন চেপে ধরে? শরীরের সঙ্গে নিকোটিনের এই অদ্ভুত খেলাটি চমকে দেবে

অনেকেই ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু মাঝপথে গিয়ে একটা বড় সমস্যায় পড়েন। একটা প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা সিগারেট না ধরালে পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। কিন্তু সিগারেট খাওয়া আর পেট সাফ হওয়ার মধ্যে ঠিক কী ধরনের যোগসূত্র রয়েছে, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে মানব শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও নিকোটিনের এক গভীর রাসায়নিক প্রভাব।
সিগারেট খেলে কেন মলত্যাগের বেগ আসে?
সিগারেটে উপস্থিত নিকোটিন সরাসরি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে অন্ত্রের নড়াচড়া বা বাওয়েল মুভমেন্ট আকস্মিকভাবে অনেকটাই বেড়ে যায়। অন্ত্রের গতি দ্রুত হওয়ার কারণে বর্জ্য পদার্থ দ্রুত নিচের দিকে নামে এবং সঙ্গে সঙ্গে মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়। এই কারণেই অনেকে ধূমপান করার ঠিক পরপরই শৌচাগারে যাওয়ার তাড়া অনুভব করেন। তবে এর মানে এই নয় যে সিগারেট হজমের জন্য ভালো। নিকোটিন কেবল সাময়িকভাবে অন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে। এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি হিসেবে শরীরে একাধিক মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই পেট পরিষ্কার রাখার মতো অজুহাতে সিগারেটের ওপর নির্ভর করা সম্পূর্ণ বোকামি।
সিগারেট ছাড়লেই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় কেন?
যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের শরীর একসময় নিকোটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে যখন কেউ সিগারেট ছেড়ে দেন, তখন শরীরে নিকোটিনের সেই প্রভাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বা গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। আর ঠিক এই কারণেই ধূমপান ছাড়ার পর সাময়িকভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট পরিষ্কার না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে চিকিৎসকদের আশ্বাসী বাণী হলো, এটি সম্পূর্ণ একটি সাময়িক সমস্যা। শরীর ধীরে ধীরে নিকোটিনের সাহায্য ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তাই এই সামান্য সমস্যায় ঘাবড়ে গিয়ে ফের সিগারেট ধরানোর কোনো অর্থই হয় না।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির সহজ উপায়
ধূমপান ছাড়ার পর অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক করতে কিছু সুঅভ্যাস দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে:
-
পর্যাপ্ত জল পান: সারা দিন ধরে প্রচুর পরিমাণে জল বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
-
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, টাটকা ফলমূল এবং গোটা শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার বাড়াতে হবে।
-
নিয়মিত হাঁটাচলা: প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় থাকে।
-
সঠিক রুটিন: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া দাওয়া এবং শৌচাগারে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ধূমপান ছাড়ার পর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যদি খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এর পেছনে হজমতন্ত্রের অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যাও লুকিয়ে থাকতে পারে।