বেহাত জমি ফিরে পেতে কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যের! এক ইঞ্চি জমির হিসেব রাখতে নামানো হচ্ছে বিশেষজ্ঞ সংস্থা

রাজ্যের সরকারি জমির জবরদখল রুখতে এবার সবচেয়ে বড় এবং কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে নবান্ন। খাতায়-কলমে সরকারের হাতে ঠিক কতটা সম্পত্তি রয়েছে এবং বাস্তবে তার বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বিশাল মাপের মেগা জরিপ বা সার্ভে শুরু করছে রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ে থাকা সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্ত জমি পুনরুদ্ধার করতেই এবার আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছে ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে ডিরেক্টরেট।

নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের প্রতিটি জমি কোথা থেকে শুরু হচ্ছে এবং কোথায় গিয়ে তা শেষ হচ্ছে, তার নিখুঁত সীমানা নির্ধারণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে, উদ্ধার হওয়া জমির দখল বজায় রাখতে সীমানা বরাবর পাকাপাকিভাবে পিলার বা খুঁটি বসানোর সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা, এই নিখুঁত তথ্য-ভাণ্ডার প্রস্তুত হওয়ার পর জবরদখল উচ্ছেদে বড়সড় সাঁড়াশি অভিযান চালাতে পারে সরকার।

কেন এই মেগা জরিপ? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের কাছে বিপুল পরিমাণ জমির দালিলিক রেকর্ড থাকলেও বাস্তবে তার একটি বড় অংশের অস্তিত্ব নিয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেই জমি চলে গেছে স্থানীয় জবরদখলকারীদের কব্জায়। আবার এক দপ্তরের জমিও অন্য দপ্তরের দখলে চলে যাওয়ার মতো বিশৃঙ্খলার অভিযোগও রয়েছে। এই নজরদারির অভাব দূর করতেই নবান্নের কাছে বিভিন্ন দপ্তর জমির পরিমাপের আর্জি জানিয়েছিল। যার ফলে এবার কেবল ফাঁকা প্লট বা জমিই নয়, বরং রাজ্যের প্রতিটি সরকারি অফিস, পরিকাঠামো, রাস্তা, রেললাইন, খাল ও বাঁধের রেখা বরাবর নিখুঁত মাপজোখ করা হবে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সনাতন পদ্ধতিতে ফিতে মেপে নয়, বরং এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করবে রাজ্য। ইলেকট্রনিক টোটাল স্টেশন এবং গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের (GNSS)-এর মতো উপগ্রহ প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এক ইঞ্চি জমির হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। এই পুরো কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে নিয়োগ করতে দরপত্র ডাকা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে জরিপের ভিত্তিতে নিখুঁত মানচিত্র ও নকশা সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। নবান্ন চাইছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই জরিপের রিপোর্ট হাতে পেয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *