‘নামেই টাইগার রিজার্ভ, টাইগার ছিল না,’ বক্সা থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

গান্ধী জয়ন্তীর আবহে উত্তরবঙ্গের জঙ্গল পর্যটনে এক ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে নিয়ে আসা একটি বাঘিনীকে বক্সার গভীর জঙ্গলে সফলভাবে অবমুক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এদিন বক্সার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে রাজ্যে আরও তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে আসা হবে। ডুয়ার্সের পর্যচিত্রকে বিশ্বমানের করে তুলতে সরকারের এই মেগা পরিকল্পনা ঘিরে এখন থেকেই তীব্র উন্মাদনা তৈরি হয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ প্রেমীদের মধ্যে।

ঐতিহাসিক মহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত হেভিওয়েট নেতৃত্ব

রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাওয়ের আয়োজিত এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়কদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের এই সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই বক্সার ২৫ মাইলের গভীর জঙ্গলে নতুন অতিথিকে তার প্রাকৃতিক আবাসে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিহারের বাল্মীকি রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে বাঘিনীটিকে রাজ্যকে উপহার দেওয়ার জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা তো সবে শুরু হলো। দেখতে থাকুন, পশ্চিমবঙ্গের সরকার আমাদের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গোটা পৃথিবীর পর্যটকদের এখানে টেনে আনবে।” তাঁর ঘোষণা, আগামী দিনে ঢেলে সাজানো হবে পুরো ডুয়ার্স অঞ্চলকে। জয়ন্তী সংলগ্ন প্রায় ২ হাজার একর গভীর জঙ্গলকে চিহ্নিত করে সেখানে একটি ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফরেস্ট ডেস্টিনেশন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

কেন বক্সায় আনা হলো বাঘিনী?

বক্সা জঙ্গলটির একদিকে ভুটান এবং অন্য দিকে অসম সীমান্ত। অতীতে এই দুই বনাঞ্চল থেকে মাঝেমাঝেই বাঘের আনাগোনা ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়লেও পাকাপাকিভাবে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। বক্সায় মূলত পুরুষ বাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেই কারণেই ভুটান বা অসম থেকে আসা বাঘেদের সঙ্গে প্রজননের মাধ্যমে বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বাড়াতে এই বাঘিনীকে ছাড়ার সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের শেষের দিকে বক্সায় দুটি বাঘের দেখা মিলেছিল। আটের দশকে যেখানে ১০-১২টি বাঘের অস্তিত্ব ছিল, নতুন এই পদক্ষেপে বক্সা তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে বলেই আশাবাদী বন দফতর।

হলং বাংলোর সংস্কার ও একাধিক নতুন ঘোষণা

এদিন জঙ্গল সফর ও অন্যান্য অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক হলং বাংলো আরও সুসজ্জিত করে তোলার জন্য সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জলদাপাড়ায় জঙ্গল সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান, গন্ডার দিবস উপলক্ষে ৩টি গন্ডার ও অসংখ্য বাইসনের দেখা পাওয়ার পাশাপাশি তিনি দুটি নবজাতক হস্তিশাবকের নামকরণও করেছেন—ছেলে হাতির নাম রেখেছেন ‘চৈতন্য’ এবং মেয়ে হাতির নাম ‘সুলঙ্খনা’।

আগের সরকারের জমানায় টাইগার রিজার্ভের নামে উদাসীনতা ও সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে তোপ দেগে বর্তমান সরকারের হাত ধরে উত্তরবঙ্গের জঙ্গল পর্যটনে যে নতুন সূর্যোদয় হতে চলেছে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *