অনুব্রত ‘বাঘ’, আর মমতা নাকি ‘বিজেপির লক্ষ্মী পেঁচা’! সিউড়িতে গিয়ে বিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন ঋতব্রত

অনুব্রত মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনার পর এবার সরাসরি আসরে নামল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে কেষ্ট মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অরূপ বিশ্বাস সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। অনুব্রতকে বীরভূমের ‘বাঘ’ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে আগামী ৯ অক্টোবর ফের সিউড়িতে প্রতিরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ঋতব্রত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনুব্রত মণ্ডল যদি বাঘ না হতেন, তবে ঘটনার সময় ওভাবে শান্তভাবে বসে থাকতেন না, অন্য কেউ হলে ভয়ে পালিয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করত। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তাঁকে ‘বিজেপির লক্ষ্মী পেঁচা’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। ঋতব্রতর দাবি, ধারাবাহিকভাব বিভিন্ন বিল পাশ করাতে বিজেপিকে সাহায্য করছেন মমতা, অথচ তাঁদের দলের লোকেদের নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সিউড়ি থানায় ধৃত তিন যুবককে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ায় আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে ঋতব্রত শিবির।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ ও সাজানো নাটকের তত্ত্ব
এদিকে অনুব্রতের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের এই গোটা ঘটনাটিকে ‘অতি দুর্বল চিত্রনাট্য ও সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতার কার্যালয়ে অত সহজে হামলা চালানো সম্ভব নয়। সুকৌশলে পরিকল্পনা করে এই নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। তবে ভোটের ঠিক মুখে বীরভূমের এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ এখন চরমে।