প্রথমে সোজা না করে দিয়েছিলেন, পরে কেন সলমন খানের মায়ের চরিত্র করতে রাজি হন এই নায়িকা? জানুন অজানা গল্প

পর্দায় তারকাদের লুক ও চরিত্রের সমীকরণ নিয়ে দর্শকের কৌতূহলের অন্ত নেই। বিশেষ করে যখন কোনো ছবির কাস্টিংয়ে বয়সের ব্যবধান বা সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে একটু অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন তা নিয়ে চর্চা শুরু হয় নেটপাড়ায়। ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল পরিচালক আলি আব্বাস জাফরের আলোচিত ছবি ‘ভারত’-এর ক্ষেত্রে। রিয়েল লাইফে সলমন খানের চেয়ে বয়সে ৯ বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও পর্দায় তাঁর মায়ের চরিত্র রূপায়ন করেছিলেন অভিনেত্রী সোনালী কুলকার্নি। কিন্তু জানেন কি, এই ছবির অফার পাওয়ার পর প্রথমবার সোজাসুজি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্পই শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। সোনালী জানান, সালটা ২০১৯। যখন তাঁর কাছে ‘ভারত’ ছবিতে সলমন খানের মায়ের চরিত্রের অফার আসে, তখন তিনি প্রথমে বেশ দ্বিধায় পড়ে যান। তাঁর মনে হয়েছিল, রিয়েল লাইফ বয়সের ব্যবধানের কথা মাথায় রাখলে এই চরিত্রে তাঁকে একেবারেই মানাবে না। এমনকী, পরিচালক আলি আব্বাস জাফর ও কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়াকে তিনি নিজেই বেশ কয়েকজন অন্য অভিনেতার নাম সাজেস্ট করেছিলেন, যাঁরা ওই বয়সের মায়ের চরিত্রে বেশি মানানসই হতেন।
অভিনেত্রী জানান, কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্র বা অন্যরকম লুকে কাজ করতে তাঁর কোনোদিন আপত্তি ছিল না। এর আগে কেরিয়ারের প্রথম ছবি ‘চেলুভি’-তে গাছ হয়ে যাওয়া মেয়ের চরিত্রে কিংবা ‘দায়রা’-তে গোঁফওয়ালা যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘ভারত’ ছবির ক্ষেত্রে সমস্যাটা ছিল শারীরিক রূপায়ণ নিয়ে।
তবে আসল ইউটার্নটি আসে চিত্রনাট্য শোনার পর। সোনালী বুঝতে পারেন যে, ছবিটিতে সলমন খানের চরিত্রের একদম ছোটবেলা ও কৈশোরের ফ্ল্যাশব্যাকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভাইজানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আগে কখনও হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে এবং চিত্রনাট্যের গভীরতা বুঝে অবশেষে তিনি আর ‘না’ বলতে পারেননি। রাজি হয়ে যান সেই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটিতে অভিনয় করতে। পর্দায় তাঁদের সেই কেমিস্ট্রি এবং সোনালীর অভিনয় আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে রয়েছে।