“খুব শীঘ্রই সব ফাঁস হবে!” দিল্লি বৈঠক থেকেই কি জোট ভাঙার ছক কষেছিলেন মমতা? তুলকালাম রাজ্য রাজনীতি

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক এবং জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ফের একবার চরম আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বীরভূমের বোলপুরে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, তবে কি বিজেপির নির্দেশেই ইন্ডিয়া জোট ভাঙতে গিয়েছিলেন মমতা? তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী বলেছেন বিরোধী দলনেতা?
এদিনের বৈঠক থেকে তীব্র কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, খুব শীঘ্রই বাংলার দেওয়ালে হয়তো দেখা যাবে যে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরূপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন। অতীতেও নানা সময় বিভিন্ন বিল পাসের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরিয়ে বিজেপিকেই সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাঁর যোগদান প্রসঙ্গে বিরোধী নেতার দাবি, তিনি আদতে জোটকে শক্তিশালী করতে গিয়েছেন, নাকি বিজেপির ইশারায় বিভ্রান্তি ছড়াতে গিয়েছেন, তা আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
অধীর চৌধুরীর প্রস্তাব ও অনুব্রতর সঙ্গে সাক্ষাৎ
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর সদ্য দেওয়া মন্তব্য এবং মমতাকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বলতে গিয়ে ঋতব্রত তীব্র আক্রমণ করেন। সিউড়িতে হামলার পর এদিন বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, মদন মিত্র সহ একাধিক নেতা। অনুব্রতর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শাসকশিবিরকে একহাত নেন বিরোধী দলনেতা। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন তিনি। সবমিলিয়ে, ভোটের ডামাডোলের মাঝে বিরোধী নেতার এই ঝাঁঝালো আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।