সাগরদিঘি কাণ্ডের ফের পুনরাবৃত্তি ঘটবে বাংলায়? ভোটের প্রচারে গিয়ে বিরোধীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

আসন্ন ৬ অক্টোবর রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক পারদ। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী জনসভায় প্রচারের অংশ হিসেবে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের শাসকদল এবং বিরোধী বাম-কংগ্রেস শিবিরকে একহাত নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে সাগরদিঘি মডেলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বাম ও কংগ্রেস শিবিরকে দল ভাঙানোর এক প্রকার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কী বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী?
এদিনের জনসভা থেকে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করা বামেদের বিধানসভায় আজ সাকল্যে একজন মাত্র বিধায়ক বেঁচে রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ২৫ বছর রাজত্ব করা কংগ্রেসের অবস্থাও আজ সাইনবোর্ডের মতো, তাদের বিধায়ক সংখ্যা মাত্র দুই। এর পরেই সরাসরি সাগরদিঘির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তাও যদি কেউ বাড়াবাড়ি করতে চায়, তবে সাগরদিঘির মতো অবস্থা হবে—একদিনেই ভোকাট্টা!” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হওয়ার কিছুদিন পরেই তৎকালীন বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েই মূলত বিরোধীদের অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন পদ্মনেতা।
তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ
শুধু বাম বা কংগ্রেস নয়, বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানাতেও রাজ্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে শাসকদলের অন্দরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মন্ত্রী ও বিধায়করা একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। চাকরি চুরি, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন এলাকার অশান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকারের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে এবং আগামী দিনে সাধারণ মানুষ এর কড়া জবাব দেবে। উপ-নির্বাচনের ঠিক আগে বিরোধী নেতার এই ঝাঁঝালো বক্তব্য যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।