CPIM করায় বাবাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছিল TMC, ঘটনার নেপথ্যে কি তবে পুরনো ক্ষোভ?

‘বীরভূমের বাঘ’ হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডলকে খোদ তাঁর নিজের পার্টি অফিসে ঢুকে শাসানি ও চরম হুমকির চিত্র ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সিউড়িতে অনুব্রতের পার্টি অফিসে ঢুকে তিন যুবক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাঁকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। যদিও রাতেই তাদের আটক করা হলেও পরে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এমনকী, খোদ অনুব্রত মণ্ডল এই ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
ঠিক কী হয়েছিল সিউড়ির পার্টি অফিসে?
জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন পর বুধবার সন্ধ্যায় সিউড়ির পার্টি অফিসে পৌঁছন অনুব্রত মণ্ডল। ঠিক সেই সময়ই আচমকা তিন যুবক সেখানে চড়াও হয়। হাতে লাঠি ও রড নিয়ে তারা পার্টি অফিসের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যেই অনুব্রতকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয় এবং ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়। যুবকদের বলতে শোনা যায়, গত ১৫ বছর ধরে বীরভূমের মানুষের ওপর বহু অত্যাচার চালানো হয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, অনুব্রতের বুকে গাছের ডাল বা চ্যালা কাঠ ঠেকিয়ে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়—’সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ সেই সময় অনুব্রতকে হাত জোড় করে সংযত হওয়ার অনুরোধ করতে দেখা গেলেও অভিযুক্ত যুবকরা তা থামিয়ে দেয়। টেবিলে সজোরে আঘাত করায় ছিটকে আসা কাচ গিয়ে লাগে অনুব্রতের গায়ে। তবে এত কিছুর পরেও তাঁকে হাসিমুখেই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
কেন ছাড় পেল অভিযুক্ত যুবকরা?
অনুব্রত মণ্ডল এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের না করায়, মুচলেকা নিয়ে আকাশ দেবনাথ, ঋষভ গোর এবং বান্টি বীরবংশী—এই তিন যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধৃত তিনজনই সিউড়ি হাটবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক কারণে আকাশ দেবনাথের বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল, যার জেরে তাঁকে দীর্ঘদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়। এই পুরনো ক্ষোভ বা আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই যুবকরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
যদিও অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ঋষভ গোরের মা জানান যে ওই যুবক বাড়িতে থাকে না এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, বান্টি বীরবংশীর বাবা জানিয়েছেন যে তাঁর ছেলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং সে কেন এই কাজ করল তা তিনি সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি যুব মোর্চার বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজয় কৃষ্ণ ঘোষ এই যুবকদের সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে ঘটা এই রোমহর্ষক ও অপ্রত্যাশিত কাণ্ড বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণকে ফের নতুন করে উসকে দিয়েছে।