“ভোটের সফটওয়্যারে কারসাজি?”-নির্বাচন কমিশনের সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এ বার FIR?

নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এবার এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়ে অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। দিল্লি পুলিশের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সীমা খান্নার বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর নথিভুক্ত করা সম্ভব কি না, তা আইনগতভাবে খতিয়ে দেখতে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন থানার এসএইচও (SHO)।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই চর্চায় রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগ। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নানা অভিযোগের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা বিরোধী শিবির সরাসরি নিশানা করেছে সীমা খান্নাকে।

কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দলের মূল অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ইআরও (ERO) এবং ব্লক স্তরের আধিকারিকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে সফটওয়্যারের ব্যাক-এন্ডে কারসাজি করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় বড় ধরনের হেরফের করা হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশন ‘ECINet’ চালু করে। কমিশনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ডেটাবেস এবং অ্যাপকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনাই এর লক্ষ্য ছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার কথা বলা হলেও, সীমা খান্নার নেতৃত্বাধীন আইটি বিভাগকে এই সফটওয়্যার ও ডেটাবেসে একচ্ছত্র প্রবেশাধিকার দেওয়ায় শুরু হয় ধুন্ধুমার বিতর্ক।

কে এই সীমা খান্না?

সীমা খান্না মূলত নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। মূলত ‘ECINet’ এবং ‘ERONet’—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার পরিচালনা করেন তিনি। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ECINet চালুর পেছনের কারিগর ছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে ৪০টিরও বেশি পোর্টালকে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছিল।

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২৫ বছরেরও বেশি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ঝুলি রয়েছে সীমা খান্নার। তিনি পাটনার নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আইআইটি দিল্লি থেকে ইনফর্মেশন সিকিউরিটিতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। অতীতে এনআইসি-র ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অভিজ্ঞতাই এখন জোরদার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *