রাতে চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক হয় না? ক্যাব ও বাইক ট্যাক্সির নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলা আদালতে

অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা ক্যাব, বাইক ট্যাক্সি এবং অন্যান্য রাইড-হেইলিং পরিষেবাগুলিতে নারী যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জনপ্রিয় ক্যাব সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উবার, ওলা এবং র‍্যাপিডো-র পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ জারি করেছে। নারী চালক ও যাত্রীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানিকালে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বেসরকারি অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব কোম্পানিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহি করতে হবে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিজেদের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী রয়েছে এই জনস্বার্থ মামলায়?

আদিত্য সেহগাল নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলার মূল লক্ষ্য হলো অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব ও বাইক ট্যাক্সিগুলিতে মহিলাদের জন্য কঠোর সুরক্ষা বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। আবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বর্তমানে দুই লক্ষেরও বেশি অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চলাচল করছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই রাতে চালকদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয় না।

আবেদনকারীর আইনজীবীর মতে, রাত ৮টা বা ৯টার পর বিমানবন্দর বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত চালকদের সঠিক ভেরিফিকেশন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। এমনকি চালকরা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন কি না, সেই বিষয়টিও নিয়মিত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

চালক ও গাড়ির পরিচয় যাচাই এবং এসওএস কন্ট্রোল সেন্টারের দাবি

মামলাটিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:

  • সঠিক যাচাইকরণ: চালকদের পরিচয় এবং তাদের অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড নিখুঁতভাবে তদন্ত করতে হবে। অ্যাপে যে চালক ও গাড়ির তথ্য দেখানো হবে, যাত্রার সময় ঠিক সেই একই চালক ও গাড়ি থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

  • বিনা জরিমানায় যাত্রা বাতিলের অধিকার: পূর্ব কোনো বিজ্ঞপ্তি বা কারণ দর্শানো ছাড়া চালক বা যানবাহন পরিবর্তন করা হলে, যাত্রীদের কোনো রকম জরিমানা ছাড়াই সেই যাত্রা বাতিল করার পূর্ণ সুযোগ থাকতে হবে। এই ধরনের ঘটনাকে সরাসরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টা খোলা এসওএস কন্ট্রোল সেন্টার: জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের জন্য একটি ২৪-ঘণ্টার কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে বুকিংয়ের তথ্য, চালকের পরিচয়, গাড়ির নম্বর এবং লাইভ লোকেশন জরুরি উদ্ধারকারী দল ও পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করার কথা বলা হয়েছে, তবে তা অবশ্যই আইন ও গোপনীয়তার নিয়ম মেনে করতে হবে।

রাইড-হেইলিং পরিষেবাগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহলের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *