অন্ধ মা-বাকপ্রতিবন্ধী বাবার একমাত্র আধার ছিল যে শিশু, কুয়োয় ডুবে মর্মান্তিক পরিণতি! কান্নায় ভাঙল গোটা গ্রাম

ঝালাওয়ার: রাজস্থানের ঝালাওয়ার জেলার কাছে তিতারভাসা গ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাত বছরের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। কুয়োয় ডুবে ওই বালকের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত শিশুটির নাম লোকেশ। সে স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ত এবং বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে লোকেশ তার মা সুমিত্রার সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল। সেই সময় তার মা ক্ষেতে সয়াবিন কাটছিলেন। মায়ের ব্যস্ততার সুযোগেই শিশুটি সেদিক থেকে অন্যত্র চলে যায়। সন্ধ্যাবেলা মা বাড়ি ফিরে লোকেশকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন এবং কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে খবর দেন। এরপরেই পরিবার ও গ্রামবাসীরা মিলে চারপাশ খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তল্লাশির সময় গভীর রাতে গ্রামবাসীরা ভানওয়ারলালের একটি গভীর কুয়োর ধার থেকে লোকেশের জামাকাপড় উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় কুয়োয় তল্লাশি চালায়। কিন্তু কূপটি অতিরিক্ত গভীর হওয়ার কারণে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধারকাজ সফল হয়নি। পরে বুধবার সকালে ফের তল্লাশি চালিয়ে কুয়োর নিচ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি এসআরজি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত লোকেশ ছিল তার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ও অন্ধকারের আলো। তার বাবা ভূপেন্দ্র বাকপ্রতিবন্ধী এবং মা সুমিত্রা দৃষ্টিশক্তিহীন। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও কৃষিকাজ ও দিনমজুরির মাধ্যমে কোনোমতে সংসার চালাতেন ভূপেন্দ্র। একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাবা-মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।

স্টেশন হাউস অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, শিশুটি কীভাবে ওই গভীর কুয়োয় পড়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুমান, শিশুটি হয়তো নিজে থেকেই কুয়োয় নামতে গিয়ে বিপদে পড়েছিল। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *