প্রেমিকার জন্য দুই প্লেট ছোলে-ভাটুরে প্যাক করা হচ্ছিল! হাতেনাতে ধরে ফেললেন স্ত্রী, তারপর যা ঘটল

উত্তরপ্রদেশের হাপুরের বিখ্যাত তীর্থস্থান ব্রিজঘাটে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পরকীয়া সম্পর্কের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্ত্রীর হাতে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক বিবাহিত ব্যক্তি। আর এই পুরো কাটার মূল চাবিকাঠি ছিল মাত্র দুই প্লেট সুস্বাদু ‘ছোলে-ভাটুরে’!
ঠিক কী ঘটেছিল ব্রিজঘাটে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম অজয়। ১৪ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর দুটি ছেলেও রয়েছে। তাঁর স্ত্রী কবিতার দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, কাজের কথা বলে অজয় প্রায়ই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সময় কাটান। এই নিয়ে এর আগেও তাঁদের সংসারে একাধিকবার অশান্তি হয়েছে। সম্প্রতি অজয় ফের ব্রিজঘাটে এক মহিলার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন—এমন খবর পেয়ে যান তাঁর স্ত্রী।
এরপর আর কালবিলম্ব না করে পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে সোজা ব্রিজঘাটে গিয়ে হাজির হন কবিতা। সেখানে একটি গেস্ট হাউসের সামনে তিনি দেখতে পান, অজয় একটি দোকান থেকে পরম যত্নে দুই প্লেট ছোলে-ভাটুরে প্যাক করাচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্বামীর সামনে গিয়ে হাজির হন স্ত্রী।
রাস্তায় হাতাহাতি ও ধুন্ধুমার কাণ্ড
হঠাৎ স্ত্রীকে সামনে দেখে ঘাবড়ে যান অজয়। শুরু হয় তুমুল কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি। ব্যস্ত রাস্তার মাঝে স্বামী-স্ত্রীর এই প্রকাশ্য ঝগড়া দেখতে কৌতূহলী জনতার ভিড় জমে যায়। স্ত্রীর সোজা অভিযোগ ছিল, অজয় ওই বিশেষ বান্ধবীর জন্যই দুই প্লেট খাবার প্যাক করাচ্ছেন।
যদিও অজয় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে তিনি কোনো মহিলার সঙ্গে ছিলেন না। মানসিক চাপের কারণে তিনি একাই হাওয়া বদলাতে সেখানে এসেছেন। তখন চতুর স্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “একা এলে দুই প্লেট খাবার কার জন্য প্যাক হচ্ছিল?” এই জাদরেল যুক্তির সামনে আর কুলিয়ে উঠতে পারেননি অজয়।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গড়ায় থানা পর্যন্ত। ব্রিজঘাট থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পুলিশ মধ্যস্থতা করে। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই পারিবারিক নাটকের আপাতত অবসান ঘটে এবং আইনি ঝামেলা ছাড়াই তাঁরা বাড়ি ফিরে যান।