কমনওয়েলথ গেমসে জোড়া পদকজয়ী বাঙালি! আসানসোলের ‘সোনার ছেলে’ কুন্তল দাসের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

ব্রিটেনের মাটিতে ভারতের মান উজ্জ্বল করে কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনে জোড়া পদক জিতে নিজের শহর আসানসোলে ফিরে এলেন কুন্তল দাস। ইকুইপড বেঞ্চ প্রেস বিভাগে সোনা এবং ক্লাসিক বেঞ্চ প্রেস বিভাগে রূপো জিতে দেশের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি ইস্কো (IISCO) কারখানার কোকওভেন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কিন্তু কঠিন পেশার ঝক্কি এবং রোমাঞ্চকর শিফটের ডিউটি সামলেও পাওয়ারলিফটিংয়ের মতো একটি কঠিন খেলায় তাঁর এই আন্তর্জাতিক সাফল্য বাংলার ক্রীড়ামহলে এক বিরল নজির সৃষ্টি করেছে।

কঠিন লড়াই ও আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতা

এবারের কমনওয়েলথ প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুন্তল জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলির পরিকাঠামো এবং বৈজ্ঞানিক ডায়েট ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে লড়াই করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর আগে জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় এশিয়া প্যাসিফিক প্রতিযোগিতায় সোনা জয়ের পর তাঁর এই সাফল্য দেশের শক্তিভিত্তিক খেলাধুলার (Strength Sports) মানচিত্রকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, আমাদের দেশে এখনও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। জিম করলে উচ্চতা বা গ্রোথ কমে যায়—এমন ভ্রান্ত ধারণা কাটিয়ে পেশাদার ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

পেশা বনাম নেশা: কীভাবে সামলান দুই দিক?

সারাদিন কারখানার গ্যাস, ধুলো এবং ভারী কাজের চাপ সামলে কীভাবে এই কঠিন খেলা চালিয়ে যান? প্রশ্নের উত্তরে কুন্তল বলেন, প্যাশন বা তীব্র ভালোলাগা থাকলে সব সামলে নেওয়া যায়। ১৪ বছর ধরে কারখানায় শিফটে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজের ফিটনেস রুটিন এবং ডায়েট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মেনে চলেন। এমনকি তিনি নিজে উদীয়মান অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণও দেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার জন্য পর্যাপ্ত স্পনসরশিপ ও আর্থিক সহায়তার অভাব যে দেশের অনেক প্রতিভাকে আটকে রাখে, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। সম্প্রতি সেল (SAIL)-এর চেয়ারম্যান তাঁকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে আশাবাদী এই অ্যাথলেট।

নতুনদের জন্য বিশেষ বার্তা

পুজো এলেই জিম করার হিড়িক বা হঠাৎ করে ফিট হয়ে যাওয়ার শর্টকাট প্রবণতা নিয়ে যুবসমাজকে সতর্ক করেছেন কুন্তল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ফিটনেস বা খেলাধুলা কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি জীবনধারার অংশ। রাতারাতি বডি বানানোর শর্টকাট বা স্টেরয়েডের ক্ষতিকর অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতাকে আঁকড়ে ধরেই আসল সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *