ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব মামলায় বড় মোড়! ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের হাই-ভোল্টেজ শুনানিতে কী ঘটবে?

ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াইতে সাময়িক স্বস্তি পেলেন এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র। ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (NCLAT) তাঁর দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঋণদাতাদের নোটিশ জারি করেছে। একইসঙ্গে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আপিল ট্রাইব্যুনাল।

ঠিক কী নিয়ে দ্বন্দ্ব?

এর আগে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)-এর পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গত ১ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই আদেশে সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব মামলায় তৃতীয় বা টাই-ব্রেকার বিচারকের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁকে তাঁর সমস্ত সম্পদ বিক্রি বা অবলুপ্তি (Liquidation) থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এনসিএলটি-র সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন সুভাষ চন্দ্র।

আপিল ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন বিচারপতি যোগেশ খান্না এবং টেকনিক্যাল সদস্য বরুণ মিত্র ও অজয় ​​দাস মেহরোত্রাকে নিয়ে গঠিত এনসিএলএটি-র বিশেষ বেঞ্চ জানিয়েছে, অবিলম্বে ঋণদাতাদের নোটিশ জারি করা হোক। ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে যে, এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি, সুভাষ চন্দ্রকেও ঋণদাতাদের উত্তরের বিপরীতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।

শুনানিকালীন কিছু ঋণদাতার প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার অনুরোধে, আপিল ট্রাইব্যুনাল ঋণদাতাদের দ্বারা দায়ের করা একটি পৃথক আবেদনকে চন্দ্রের আপিলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ওই আবেদনে এনসিএলটি-র সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার স্বীকৃত দাবি নিষ্পত্তির জন্য মাত্র প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

২৯ ও ৩০ অক্টোবরের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আগামী ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর সুভাষ চন্দ্রের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক দিন বরাদ্দ থাকবে সুভাষ চন্দ্রের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের জন্য এবং অন্য দিনটি নির্ধারিত থাকবে ঋণদাতাদের পক্ষের সওয়াল শোনার জন্য।

শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ১৯ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের এনসিএলটি বেঞ্চের পরবর্তী শুনানির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও, সুভাষ চন্দ্রের আইনজীবী ধ্রুব মেহতা তার তীব্র বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের এই জোড়া শুনানির ওপরই এখন সমস্ত আর্থিক মহলের নজর আটকে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *