৭২৮ জনের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৭২৭ জন! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মারাত্মক অভিযোগ রাহুলের

দিল্লির চাঁদনি চক বিধানসভা এলাকার একটি বুথে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যা ঘটেছে, তা জানলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। একটি নির্দিষ্ট বুথে মোট ৭২৮ জন ভোটার থাকলেও, নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সেখানে দেখা যাচ্ছে মাত্র ১ জনের নাম! বাকি ৭২৭ জনের নামই তালিকা থেকে একেবারে উধাও। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। আর এই ইস্যুতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে আসরে নামলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
ঠিক কী ঘটেছে বেলা এস্টেটে?
দিল্লির প্রাচীন বসতি এলাকা বেলা এস্টেটের বাসিন্দারা গত কয়েক দশক ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। ওই এলাকার একটি বুথে অতীতে যেখানে ৭২৮ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন, নতুন সংশোধিত তালিকায় তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১-এ!
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম ‘ইটিভি ভারত’। শুধু বেলা এস্টেটই নয়, ওই প্রতিবেদনে মঙ্গলপুরীর Y ব্লকে কান্তা প্রসাদ নামের এক জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তাঁর নাম এএসডিডি (অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট) তালিকায় তুলে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে আসে।
নির্বাচন কমিশনকে নিশানা রাহুলের
সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, বেলা এস্টেটের যে মানুষগুলির নাম ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সকলেই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই অপচেষ্টাকেই সরাসরি ‘ভোট চুরি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গণতন্ত্রের এই নজিরবিহীন বেনিয়ম নিয়ে এখন উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।