ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে চরম গোলমাল: সিইও-র এক চিঠিতে তোলপাড় রাজনীতি!

ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিক বা ইআরও-দের (ERO) হাতে অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল মহারাষ্ট্র। কমিশনের অন্দরে সফ্‌টওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন নিয়ে তুমুল বিতর্কের মাঝেই মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এস চোকালিঙ্গম এই সুপারিশ করেছেন। আগামী ১৬ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। ঠিক তার আগেই নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো এই চিঠি কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের সিইও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ, দুই সচিব এবং কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজি সীমা খন্নাকে এই প্রস্তাবিত চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ডিজি সীমা খন্নার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রমের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন স্বয়ং দুই নির্বাচন কমিশনার।

‘ইসিআইনেট’ সফ্‌টওয়্যারে মূলত চারটি বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সিইও:

  • শুনানি থেকে অব্যাহতির নতুন সুযোগ: বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবীণ বা অসুস্থ নাগরিকরা শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলে সমস্যায় পড়েন। সেই কারণে পোর্টালে ‘শুনানি থেকে ছাড় দেওয়া হল’ শীর্ষক একটি নতুন বিকল্প যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • নথিগ্রহণে শিথিলতা: কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নির্দিষ্ট নথির বাইরেও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র গ্রহণের সুযোগ চাওয়া হয়েছে, যাতে সমাজভিত্তিক পিছিয়ে পড়া মানুষ, গৃহহীন বা যৌনকর্মীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কোনও জটিলতা না তৈরি হয়।

  • ইআরও-দের স্বায়ত্তশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: বিএলও (BLO)-দের রিপোর্টের পর তথ্যের অমিল থাকলে তা বর্তমানে ডিইও-র কাছে পাঠাতে হয়। নথিপত্র সন্তোষজনক হলে ইআরও যেন নিজেই সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নাম যুক্ত বা বাদ দিতে পারেন, সেই ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।

  • কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবস্থার সংস্কার: ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার তালিকা সংরক্ষণের আইনি এক্তিয়ার ইআরও-দেরই। অথচ ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালের অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এর আগে গোয়াতেও এই পোর্টাল সংক্রান্ত জটিলতার ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *