বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের রহস্যমৃত্যু! গোপনাঙ্গ কাটা অবস্থায় ঝাঁপ, বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়

শান্ত, মনোরম ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সাধনা করার ইচ্ছা নিয়ে বৃন্দাবনে এসেছিলেন ২৫ বছরের এক যুবক। কিন্তু সেই সাধনার পথই যে তাঁর জীবন কেড়ে নেবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ। প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক প্যাটেল ওরফে রসিক দুলারি শরণের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল মথুরা-বৃন্দাবন। মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের তোলা একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গোটা ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও গভীর হয়েছে।

মথুরার বৃন্দাবনের বরাহ ঘাট রোডে ‘গউ কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের ওই সাধক (পরিকর)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ছাদ থেকে নিচে পড়ার পর অন্যান্য সাধকেরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিকটি হলো, মৃত ওই সাধকের গোপনাঙ্গ কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও যে আশ্রমে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে প্রেমানন্দ মহারাজ নিজে থাকেন না।

মৃত যুবকের ভগ্নিপতি সোনু প্যাটেল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আশ্রম থেকে তাঁদের ফোন করে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে দুলারি ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন এবং তাঁর অপারেশন করতে হবে। এরপর পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখানে পৌঁছলেও তাঁদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো হয়। সোনুর অভিযোগ, রাতে আশ্রমে পৌঁছনোর পর তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে কেউ আসেননি। এমনকী, এর আগেও যখন তাঁরা বৃন্দাবনে দুলারির সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, তখন তাঁদের ৩-৪ দিন ধরে চক্কর কাটাতে হলেও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হতো না।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সাল থেকে ওই আশ্রমে থাকা দুলারির সঙ্গে কী পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে আত্মহত্যার তত্ত্ব খতিয়ে দেখলেও, পরিবারের এই গোপনীয়তা ও অভিযোগের তির অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য আশ্রম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *