মহাকাশেই লুকিয়ে ভবিষ্যতের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা! বড় ভবিষ্যৎবাণী ভারতীয় স্টার্টআপের

ভারতের মহাকাশ গবেষণার মানচিত্রটা এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় মহাকাশ গবেষণা মানেই ছিল সম্পূর্ণ ইসরো-নির্ভর এক অধ্যায়। তবে বর্তমানে সরকারের পলিসি বদল এবং ‘ইন-স্পেস’-এর হাত ধরে দেশের বেসরকারি সংস্থা ও স্টার্টআপগুলো এক নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। বর্তমানে দেশে চারশোরও বেশি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা কাজ করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনতে চলেছে।

ভবিষ্যতের অর্থনীতি হবে মহাকাশ নির্ভর

আইআইটি মাদ্রাজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘সঙ্গম ২০২৬’ (SANGAM 2026) সম্মেলনে দেশের মহাকাশ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেখানে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের প্রাক্তন অধিকর্তা এস উন্নিকৃষ্ণান নায়ার জানান, গ্লোবাল স্পেস ইকোনমিতে ভারতের প্রভাব বাড়াতে ইসরো, সরকার এবং বেসরকারি স্টার্টআপগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মহাকাশ স্টার্টআপ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিওও নাগ ভরত ঢাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, মানবসভ্যতার আগামী দিনের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুরোপুরি ‘স্পেস-নির্ভর’ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। স্যাটেলাইট তৈরি বা লঞ্চ করার গণ্ডি ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক ডাটা সেন্টার, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, অপটিক্যাল ফাইবার এবং বিশেষ ধরনের ম্যাটেরিয়ালস তৈরির মতো বহু নতুন ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার সুযোগ তৈরি হবে।

মাসে ১ থেকে ২টি রকেট লঞ্চের লক্ষ্য

‘বিক্রম-১’ মিশনের দুর্দান্ত সাফল্যের পর এবার আরও নিয়মিত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণের ওপর জোর দিচ্ছে স্কাইরুট। চলতি বছরের শেষেই তাদের পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ‘বিক্রম-২’ তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যা আগামী বছরের শেষের দিকে লঞ্চ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতি মাসে অন্তত এক থেকে দুটি রকেট উৎক্ষেপণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে চায় তারা।

আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে চাহিদা

বর্তমানে শ্রীহরিকোটার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর কুলশেখরপট্টিনমে নতুন লঞ্চ প্যাড তৈরির কাজ চলছে, যা ভবিষ্যতের বড় চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, বিক্রম-১ এর সাফল্যের পর দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের থেকেও বিপুল সাড়া মিলছে। বিদেশি স্যাটেলাইট অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক নতুন চুক্তিও সই হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার ফান্ডিং সংগ্রহ করেছে এই ভারতীয় সংস্থা। মহাকাশ বাণিজ্যের বিশ্ববাজারে ভারত যে ধীরে ধীরে এক শক্তিশালী শক্তি হয়ে উঠছে, তা এই সাফল্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *