এসআইআর বিতর্ক তুঙ্গে: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পৈতৃক বাসভবনে চড়াও হয়ে তাণ্ডব, ধৃত ২!

আগ্রায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পৈতৃক বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ এবং বাড়িতে আপত্তিকর স্লোগান লেখার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। হরিপর্বত থানায় বিএনএস (BNS) এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করার পর, দিল্লির দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই অভিযুক্ত কংগ্রেস কর্মীকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম অনিল যাদব ও মুকেশ ধাঙ্গার। ঘটনার পর থেকেই তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। বর্তমানে তাদের হেফাজতে নিয়ে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে আগ্রা পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার থাকলেও আবাসিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে বা সরকারি সাংবিধানিক প্রধানদের হেনস্থা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

সোমবার সকালে আগ্রার বিজয় নগরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পৈতৃক বাড়ির সামনে জড়ো হন একদল কংগ্রেস কর্মী ও বিক্ষোভকারী। এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা বাড়ির বাইরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভ চলাকালীন বাড়ির মূল ফটক এবং দেওয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে আপত্তিকর স্লোগান ও কদর্য লেখালেখি করা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ির গেটে বিভিন্ন স্টিকার ও প্রচারপত্রও সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই বিক্ষোভের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়।

৪টি মূল বিষয় এক নজরে:

  • কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ: আগ্রা পুলিশ ঘটনার পরেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিএনএস ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

  • কালি ও স্লোগান বিতর্ক: সিইসি-র পৈতৃক বাড়ির গেটে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে আপত্তিকর স্লোগান ও কালি ছেটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

  • এসআইআর বিরোধের আঁচ: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা ও নির্বাচন কমিশনের নীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে কংগ্রেসের আন্দোলনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

  • গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত: আগ্রা থেকে দিল্লির দিকে পালানোর সময় অনিল যাদব ও মুকেশ ধাঙ্গার নামের দুই সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কংগ্রেসের এই সংঘাত এবং সিইসি-র বাসভবনে এই ধরনের হামলার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *