হৃদরোগের নীরব বিপদ! অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে না তো হার্ট ব্লক? জেনে নিন ৬টি প্রাথমিক লক্ষণ

আমাদের হৃৎপিণ্ডে রক্ত পৌঁছে দেয় যেসব রক্তনালি বা করোনারি ধমনী, সেগুলোতে বাধা তৈরি হওয়াকেই হার্ট ব্লক বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই কার্ডিওভাসকুলার রোগ। হার্ট ব্লকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে মানুষ বুঝতেও পারেন না। মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাব ভেবে অনেকেই এগুলো এড়িয়ে যান, অথচ সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

কেন হয় হার্ট ব্লক?

ধমনীর দেয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমে ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ নামের একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই জমে থাকা প্লাক ধমনীর পথ সরু করে দেয়, যার ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ধমনী পুরোপুরি ব্লক হয়ে গেলেই মূলত হার্ট অ্যাটাক ঘটে।

যে ৬টি প্রাথমিক লক্ষণ ভুলেও এড়াবেন না:

  • বুকে অস্বস্তি: বুকে একটানা চাপ বা হালকা ব্যথা অনুভব করা অ্যাঞ্জাইনার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় একে সাধারণ বদহজম বলে মনে হলেও বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: দু’তলা সিঁড়ি ভাঙলে বা কথা বলার সময় হঠাৎ হাঁপিয়ে ওঠা মানে হার্ট ঠিকমতো অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না।

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগে, তবে তা ধমনী সরু হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

  • চোয়াল বা পিঠে ব্যথা: কোনো আঘাত ছাড়াই দাঁত মাজার পর চোয়ালে ব্যথা, কাঁধে তীক্ষ্ণ ব্যথা কিংবা পিঠে টান ধরা হার্ট ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।

  • মাথা ঘোরা: রক্তনালিতে ব্লক থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যায়, যার ফলে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা মাথা হালকা লাগার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • বমি ভাব ও অতিরিক্ত ঘাম: কোনো কারণ ছাড়াই বমি ভাব, বদহজম কিংবা বিশ্রামে থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে।

শারীরিক যেকোনো জটিলতা এড়াতে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *