এই টাকার পকেটে কে পোরছে? ইউপিআই চার্জ নিয়ে কেন্দ্র ও আরবিআই-কে মোক্ষম প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের

২০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউপিআই (UPI)-তে চার্জ ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে কড়া ব্যাখ্যা তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বিশেষ বেঞ্চে ইউপিআই সংক্রান্ত এই মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী অঞ্জন দত্ত অর্থ মন্ত্রকের দেওয়া নির্দেশিকার বিরুদ্ধে এই রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে আবেদনকারীর আইনজীবী এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আর্জি জানালেও শীর্ষ আদালত তাতে সায় দেয়নি।
‘এটি কর বা ফি নয়’, আদালতে দাবি কেন্দ্রের এদিন শুনানির শুরুতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এন ভেঙ্কটরামন আদালতকে জানান, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই চার্জ কার্যকর হতে চলেছে। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো চার্জ লাগবে না এবং জরুরি পরিষেবাগুলির জন্য নামমাত্র সর্বোচ্চ ৫ টাকা চার্জ ধার্য করা হয়েছে। এটি কোনো কর (Tax) বা ফি (Fee) নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
তখনই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন যে, এই সমস্ত তথ্য ও যুক্তিগুলি আদালতের কাছে হলফনামার আকারে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, এটি যদি কর বা ফি না হয়, তবে এই টাকা তোলার আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তি কী? এর বিনিময়ে গ্রাহকদের ঠিক কী পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
‘সরকার ১ টাকাও নিচ্ছে না’, দাবি এএসজির বিচারপতিদের এই প্রশ্নের জবাবে এএসজি স্পষ্ট করে জানান যে, এই চার্জ থেকে ভারত সরকার একটি টাকাও নিজের ঘরে তুলছে না। তাঁর ব্যাখ্যা, এটি মূলত পেমেন্ট এগ্রিগেটর এবং ব্যাঙ্কগুলির নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ফি। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে যেভাবে চার্জ ধার্য করা হয়, এতদিন ইউপিআই লেনদেনকে তার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমটিকে সচল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে এই চার্জ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
বিচারপতি বাগচী তখন ফের প্রশ্ন করেন, ইউপিআই-এর ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকাটা শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যায়? এর পিছনে সঠিক আইনি ভিত্তিটাই বা কী? এই সমস্ত বিষয়ে কেন্দ্র, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI)-কে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে মামলাকারীর মূল আশঙ্কা ছিল, বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনে এই চার্জ বসানোর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে, কারণ ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত খরচ ক্রেতাদের কাঁধেই চাপিয়ে দেবেন। আপাতত আদালতের নজর এখন কেন্দ্রের পরবর্তী হলফনামার দিকেই।