ভিড়ভাট্টা দূরে সরিয়ে মেঘের দেশে ছুটি কাটান! দার্জিলিংয়ের কাছেই লুকিয়ে থাকা এই নতুন অফবিট স্বর্গের খোঁজ জানেন?

উত্তরবঙ্গ মানেই কি দার্জিলিংয়ের চেনা ম্যাল রোড আর টাইগার হিলের উপচে পড়া ভিড়? গাড়ির হর্ন আর দোকানের মাইকের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে যদি দুটো দিন একদম নিরিবিলিতে মেঘ আর পাইন বনের চাদরে কাটানো যায়, তবে কেমন হয়? পর্যটকদের চেনা গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার আপনার পাহাড়ি ডায়েরিতে নতুন ঠিকানা হিসেবে যুক্ত হতে পারে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম ‘পোখারিধুরা’।
দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও পর্যটনের মানচিত্রে সেভাবে কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠেনি, আর সেটাই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এখানে নেই শহুরে ব্যস্ততা, রয়েছে কেবল ঘন পাইন বন, ধাপে ধাপে সাজানো চা বাগান, কমলালেবুর বাগান আর মেঘ-রোদের এক অপূর্ব লুকোচুরি খেলা।
কেন যাবেন পোখারিধুরায়?
এই গ্রামের মূল আকর্ষণ অবশ্যই তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখানকার যেকোনো হোমস্টের বারান্দায় বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে বিশাল কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ। ভোরবেলার সোনালি রোদে বরফচূড়ার সেই রূপ এক পলকে মন কেড়ে নেবে। পাশাপাশি, পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে কুয়াশার চাদর আর মেঘের ওড়াউড়ি আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে। এখানে ঘোরার প্রধান আনন্দ পায়ে হেঁটে। আশেপাশের রামধুরা, মাঝিধুরা বা মংপুর মতো ছোট ছোট গ্রামগুলি ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পাহাড়ি মানুষদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং অর্গানিক ঘরোয়া খাবার আপনার ট্রিপকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে। রাতের পরিষ্কার আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা শহুরে ক্লান্তি নিমেষে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে।
কীভাবে যাবেন এবং খরচ কেমন?
যাতায়াত অত্যন্ত সহজ। কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা বিমানে বাগডোগরা পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে কিংবা শেয়ার গাড়িতে অনায়াসেই ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় পোখারিধুরায়। আগে থেকে হোমস্টে বুকিং করা থাকলে অনেক সময়ই তারাই যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেয়। এখানে থাকা ও খাওয়ার জন্য মাথাপিছু খরচ মাত্র ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। তাই আসন্ন পুজো বা উইকএন্ডে যদি ভিড় এড়িয়ে নিজের মতো করে পাহাড়কে কাছে পেতে চান, তবে ঝটপট ব্যাগে গোছগাছ শুরু করে দিন!