দলত্যাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা! তৃণমূলের ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের ভাগ্য এবার কার হাতে?

দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘন করে দলীয় নির্দেশ অমান্যকারী তৃণমূলের ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজের আর্জি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলায় সরাসরি কোনো কঠোর হস্তক্ষেপ না করে পুরো বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের কোর্টেই ফিরিয়ে দিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই সংক্রান্ত বিষয়ে উপযুক্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ২০২১ সালের সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি রায় অনুযায়ী কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন বা পদ খারিজের মতো সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ একচ্ছত্র ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত এবং স্পিকার সেই সময়ের মধ্যেই উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তারা আশাবাদী। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, অনেক সময় আদালতের পক্ষেও নির্দিষ্ট ডেডলাইন মেনে চলা কঠিন হয়, তাই একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের কথা মাথায় রেখেই স্পিকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
উল্লেখ্য, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিধায়কপদ খারিজের দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। এর আগে নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম ফ্রিজ করে দেওয়ায় ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু এই ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই দেখার।