পুজো মিটতেই বড় ধাক্কা! পুরভোটেও কি ইভিএম থেকে উধায় থাকছে জোড়াফুল? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

উপনির্বাচনের পর এবার কি আসন্ন পুরভোটেও ইভিএম থেকে সম্পূর্ণ উধায় থাকতে চলেছে ঘাসফুল প্রতীক? সোমবার সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নাম কার হাতে থাকবে, সেই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরকে নিজেদের যাবতীয় নথি ও বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইনি ও রাজনৈতিক মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়াসহ রাজ্যের আসন্ন পুরসভা নির্বাচনগুলিতে জোড়াফুল প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আর কার্যত রইল না। কালীঘাট শিবিরের আইনজীবীরা চেয়েছিলেন অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হোক, যাতে জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই পুরভোটে নামা যায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লক্ষাধিক নথি যাচাই এবং অন্যান্য রাজ্যগুলির নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এই বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। সবদিক বিবেচনা করেই আদালত চার মাসের ডেডলাইন ধার্য করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক এবং নাম ফ্রিজ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় মমতা শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ও ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির পেয়েছিল ‘খাম’ প্রতীক ও ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা শিবির। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী চার মাসের মধ্যে এই মামলার সুরাহা না হওয়ায়, আসন্ন পুরভোটেও চেনা জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ময়দানে নামতে বাধ্য হতে পারে ঘাসফুল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *