কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বিরাট স্বস্তি! আবেদনের সময়সীমা বাড়াল রাজ্য, কারা পাবেন কত টাকা?

রাজ্যের কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল রাজ্য সরকার। ‘কৃষক বন্ধু নতুন’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও ১০ দিন সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে নবান্ন। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানান, ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দিয়ে যাতে রাজ্যের প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি অনুদান স্বচ্ছ্বভাবে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে একই পরিবারের একাধিক সদস্য কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেলেও এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবারের কেবল একজন সদস্যই কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম কিষাণ’-এর সুবিধা পাবেন, আর পরিবারের বাকি সদস্যরা ‘কৃষক বন্ধু নতুন’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন। রাজ্যজুড়ে বর্তমানে এই তথ্য যাচাই এবং পুনর্নবীকরণের কাজ চলছে।
কৃষি দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে মোট বৈধ কৃষকের সংখ্যা ১ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৩৮ লাখের বেশি কৃষক পিএম কিষাণের আওতায় রয়েছেন এবং বাকি প্রায় ৭১ লাখ কৃষককে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অধীনে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৪৭ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং উপভোক্তাদের সচেতন করতে প্রায় ১৮ লাখ কৃষককে এসএমএস পাঠানোর পাশাপাশি ১৬ লাখের বেশি কৃষককে স্থানীয় কৃষি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
কাদের জন্য কত অনুদান?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যাঁদের জমির পরিমাণ ৪০ শতক বা তার কম, তাঁরা বার্ষিক ৪ হাজার টাকা পাবেন। জমির পরিমাণ তার বেশি হলে অনুদানের পরিমাণ বেড়ে হবে ৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে, যাঁরা পিএম কিষাণের আওতায় থাকবেন, তাঁরা কেন্দ্রের ৬ হাজার এবং রাজ্যের ৩ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সরকারের এই কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনের বৈঠকে চা বাগানগুলিতে পোকামাকড়ের উপদ্রব রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার পাশাপাশি আলু চাষিদের জন্য আগামী মরশুম থেকে সরাসরি বীজ ভর্তুকি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।