সেপ্টেম্বরেই ডিসেম্বরের কাঁপুনি! ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিল্লিতে নামল তাপমাত্রা, বন্ধ এসি চাপা দিতে হল কম্বল

ঋতুচক্রের হিসাব যেন পুরো ওলটপালট হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতার বদলে হঠাৎ করেই রাজধানীতে জাঁকিয়ে পড়েছে শীতের আমেজ। ভরা বর্ষার মরশুমে রাতের এমন ঠান্ডা অনুভূতি দেখে তাজ্জব বনে গেছেন দিল্লিবাসী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, চরম গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষগুলো বাধ্য হয়ে এয়ার কন্ডিশনার তো বন্ধ করেছেনই, সঙ্গে গায়ে চাপাতে হয়েছে হালকা কম্বলও।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের হিসেবে এটি অন্যতম শীতলতম একটি রাত। শহরের সফদরজং অবজারভেটরিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় তিন ডিগ্রি কম। তবে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে দিল্লির রিজ এলাকা। সেখানে তাপমাত্রা নেমে ঠেকেছে ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় সাত ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতরের পরিভাষায় একে স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পতন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাতের তাপমাত্রা ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল এবং ২০০১ সালে তা ছিল ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞদের মতে, একুশ শতকের পর থেকে এটি রাজধানীর অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। শুধু রিজ এলাকাই নয়, পালাম অবজারভেটরিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ময়ূর বিহারে তা রেকর্ড করা হয় ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। লোধি রোড ও আয়ানগরের মতো পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও পারদ একুশ ডিগ্রির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে।
হঠাৎ এই আবহাওয়া বদলের নেপথ্যে রয়েছে জোড়া আবহাওয়া ব্যবস্থা। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, মধ্য উত্তরপ্রদেশের ওপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছিল যা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে আনছিল। একই সময়ে উত্তর ভারতের ওপর সক্রিয় ছিল একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এই দুইয়ের প্রভাবে রাজধানীতে একদিকে যেমন আকাশ মেঘলা হয়ে বৃষ্টি নামে, তেমনই উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা জোরালো বাতাস তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই নামিয়ে আনে।
শনিবার পালাম এলাকায় ঘণ্টায় ৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বাতাস বইছিল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করলেও এই মনোরম ও শীতল আমেজ আরও কিছুদিন উপভোগ করতে পারবেন রাজধানীবাসী।