‘সেনাবাহিনী এসে তাঁবুতে ঝুলিয়ে দিল তালা!’ এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের দিনেই বাংলার কবাডিতে এই চরম বিপর্যয় কেন?

একদিকে যখন এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া সোনা জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে ভারত, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। ময়দানের এক কোণে ময়লা ও আগাছায় ঢাকা রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের তাঁবু আজ এক প্রকার পরিত্যক্ত। রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভ, দুই সংস্থার অন্তর্কোন্দল এবং শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তালা ঝোলার জেরে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলার উদীয়মান কবাডি খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ।
জবরদখল থেকে আদালতের লড়াই: ১৯৫৬ সালে সেনাবাহিনীর তরফে রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনকে ময়দানে একটি মাঠ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, ২০১১ সালের পর রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিয়ে প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল সংস্থা তৈরি করে মাঠটি জবরদখল করা হয়। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নগর দায়রা আদালত রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষেই রায় দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশি সহায়তায় মাঠ দখলমুক্ত করতে বহু বাধা আসে। পরবর্তীতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটলে পূর্বতন কর্তারা মালির হাতে চাবি দিয়ে সরে দাঁড়ান এবং চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশন তাঁবু সংস্কার করে ফের কাজ শুরু করে।
সেনার কড়া পদক্ষেপ ও বর্তমান সংকট: তবে স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি। সেনাবাহিনীর অনুমতি ছাড়া ক্যান্টিন চালানো এবং সেখানে অননুমোদিত ব্যবসা ও আলো জ্বালানোর অভিযোগে আসরে নামে সেনাবাহিনী। পুরো পরিস্থিতি না বুঝেই সেনার পক্ষ থেকে কবাডি তাঁবুর ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে মাঠ ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা এগোলেও, দুই পক্ষের ক্রমাগত দোষ ঠেলাঠেলি এবং জাতীয় ফেডারেশনের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির শিকার হয়ে ধ্বংসের মুখে বাংলার কবাডি। ময়দানের এই বেহাল দশা কাটাতে ক্রীরমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা।