‘সাড়ে ৫ লাখে দুর্দান্ত সেডান আনল টাটা!’ মারুতি ডিজায়ারের ঘুম কাড়তে বাজারে এল কোন গাড়ি?

দেশবাসীর বাজেট ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজারে এক দারুণ চমক নিয়ে এল টাটা মোটরস (Tata Motors)। টিগর (Tigor) ব্র্যান্ডের পরিচিতি বদলে সম্পূর্ণ নতুন নামে এবং প্রিমিয়াম লুক নিয়ে হাজির হয়েছে টাটার নতুন কমপ্যাক্ট সেডান—‘এরিজ’ (Tata Aeris)। মারুতি ডিজায়ারকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে মাত্র ৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা প্রারম্ভিক মূল্যে এই গাড়িটি লঞ্চ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এর বুকিং শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী ১১ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদের হাতে গাড়ি ডেলিভারি দেওয়া শুরু হবে।
ভেরিয়েন্ট, দাম এবং সিএনজি অপশন: নতুন এই সেডানটি স্মার্ট, পিওর, পিওর প্লাস, ক্রিয়েটিভ ও অ্যাকমপ্লিসড—এই পাঁচটি ভেরিয়েন্টে বাজারে আনা হয়েছে। পেট্রোল ম্যানুয়াল মডেলের দাম ৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে টপ মডেলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি সিএনজি (CNG) মডেলে ম্যানুয়াল সংস্করণের দাম ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা এবং টপ ভেরিয়েন্টের দাম ৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য পেট্রোল ও সিএনজি উভয় মডেলেই এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সের অপশন রাখা হয়েছে।
ডিজাইন ও বিশাল বুট স্পেস: পুরোনো টিগরের তুলনায় এরিজের ডিজাইনে বড় পরিবর্তন এনেছে টাটা। নতুন টিয়াগোর আদলে তৈরি এর সামনের বনেটে রয়েছে স্লিম গ্লাস ব্ল্যাক গ্রিল, আয়তাকার এলইডি হেডল্যাম্প, নতুন বাম্পার এবং এলইডি ফগ ল্যাম্প। কমপ্যাক্ট সেডান হওয়া সত্ত্বেও এতে তাক লাগানো ৪১৯ লিটারের বিশাল বুট স্পেস দেওয়া হয়েছে, যা লম্বা সফরে লাগেজ বহনের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
আধুনিক ফিচার ও কেবিন: বাজেট গাড়ি হলেও কেবিনের ফিচারে কোনো কার্পণ্য করেনি টাটা। এতে মিলবে ১০.২৫ ইঞ্চির বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, চার স্পিকারের অডিও সিস্টেম এবং ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কার প্লে। এ ছাড়া অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস চার্জার, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, পুশ বাটন স্টার্ট-স্টপ এবং ক্রুজ কন্ট্রোল ড্রাইভ মোডের মতো প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে।
সুরক্ষা ও ইঞ্জিন ক্ষমতা: যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এরিজের সমস্ত ভেরিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ৬টি এয়ারব্যাগ, থ্রি-পয়েন্ট সিট বেল্ট রিমাইন্ডার, রেয়ার পার্কিং সেন্সর এবং আইসোফিক্স (ISOFIX) চাইল্ড সিট মাউন্ট দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোম্পানির দাবি অনুযায়ী গাড়িটির ওপর ২০ টনের পাথর চাপিয়ে এর সুরক্ষা পরীক্ষা করা হয়েছে। টপ মডেলে ৩৬০ ডিগ্রি ড্যাশক্যাম, ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর, ইএসসি (ESC), হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং টিপিএমএস (TPMS)-এর মতো আধুনিক সুরক্ষা কবচ রয়েছে। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এতে দেওয়া হয়েছে ১.২ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিন (৮৬ হর্সপাওয়ার) এবং ডুয়াল সিলিন্ডার সিএনজি মডেল (৭৫ হর্সপাওয়ার)। সাশ্রয়ী দামে দারুণ লুক ও সেফটির কারণে গাড়িটি বাজারে ঝড় তুলতে প্রস্তুত।