“নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া জরুরি!” মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কার ওপর ভরসা রাখছেন সোনম?

দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। ইতিপূর্বেই বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা তেলাপোকা জনতা পার্টির ডাকা আগামী ২ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে পূর্ণ সমর্থন জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা খ্যাতনামা জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে আন্দোলনে সমর্থন দিলেও তিনি নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার এক সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট ভাষায় জানান যে দেশের নির্বাচনী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে যে কোনো উদ্যোগকেই তিনি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “সমর্থন জানালেও সব আন্দোলনে আমাকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এটা দেখে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে যে দেশের বহু সচেতন মানুষ এখন এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সরব হয়েছেন। আশা করি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের এই ইস্যুতে আমার সরাসরি উপস্থিতির আর প্রয়োজন পড়বে না।”

যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের মূল ভিত্তি হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া—এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওয়াংচুক বলেন, “যদি সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াই কলঙ্কিত হয়ে পড়ে, তবে গণতন্ত্রের আর আদতে কী বা অবশিষ্ট থাকবে?” পাশাপাশি, এদিন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবিও জোরালো করেন। বিশেষ করে লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিল (Sixth Schedule) ভুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি অতীতে দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাস্তবায়িত করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

আগামী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী তথা গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনটিকে আন্দোলন বা প্রতিবাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াংচুক। অহিংস ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সিজেপি-র এই কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *